সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা প্রতিনিধি: ১৩ জুলাই ২০২৬ , ১:৪৮:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দামের বিরুদ্ধে মারধরে আহত এক নারীর অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি এবং সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপের পর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও মামলার পরিবর্তে দুই পক্ষকে থানায় ডেকে আলোচনার কথা জানান ওসি। শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে বারহাট্টা থানায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের আব্দুল্লাহর স্ত্রী মুক্তা বেগম (৪৫) এবং তাঁর মেয়ে আঁখি আক্তার (২৮)। অভিযুক্ত বাদশা মিয়া (৩৬) পাশের ধনপুর গ্রামের মৃত নুর হাকিমের ছেলে এবং পেশায় মৎস্য ব্যবসায়ী।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে বাদশা মিয়া শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রী আঁখি আক্তারকে মারধর করেন। মেয়েকে রক্ষা করতে গেলে শাশুড়ি মুক্তা বেগমকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তিনি আহত হন। এ ছাড়া মা-মেয়েকে মারধর ও টেনে-হিঁচড়ে আহত করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, রাত প্রায় ১০টার দিকে তাঁরা বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে অভিযুক্ত বাদশা মিয়াকে আগে থেকেই থানায় দেখতে পান। মুক্তা বেগম অভিযোগ করেন, প্রথমে ওসি তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ না করে আগামী বুধবার উভয় পক্ষকে ডেকে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলেন। পরে পরিচিত এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। তবে অভিযোগ নেওয়ার পরও ওসি তাঁদের বলেন, প্রথমে আলোচনা হবে, এরপর প্রয়োজন হলে মামলা করা হবে।
মুক্তা বেগম বলেন, “আমরা সালিশ চাই না। থানা তো সালিশের জায়গা নয়। এত বড় ঘটনার পরও অভিযোগ নিতে অনীহা দেখে আমরা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত।”
একই ধরনের অভিযোগ করেন আঁখি আক্তার। তিনি বলেন, অভিযুক্তের সঙ্গে পুলিশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেই তাঁদের অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি বলে তাঁর ধারণা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ২০২৩ সালে আঁখি আক্তারের সঙ্গে বাদশা মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। কয়েক লাখ টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এ ঘটনায় গত বছরের নভেম্বরে আঁখি আক্তার আদালতে একটি মামলা করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। তাঁদের এক বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি বাদশা মিয়া গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে শনিবারের হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি পরিবারের।
অভিযুক্ত বাদশা মিয়ার বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগের বিষয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পারিবারিক বিষয় হওয়ায় আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে।” তবে আহত মুক্তা বেগমের অভিযোগ প্রথমে গ্রহণ না করার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম বলেন, “মারধরে আহত হওয়ার ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় থানায় সালিশের কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”















