সারাদেশ

মান্দার আশ্রয়ণ পল্লিতে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটেনি, দুর্ভোগে দুই শতাধিক পরিবার

  নওগাঁ প্রতিনিধি: ১৩ জুলাই ২০২৬ , ১:৩৩:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামের আশ্রয়ণ ও আদর্শ পল্লিতে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি থাকা প্রায় ২০০ পরিবারের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। অনেক ঘরে এখনো পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। রান্নাবান্না, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ এবং শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ এবং উজানের কয়েকটি উপজেলা থেকে নেমে আসা পানির কারণে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বসতঘরে পানি প্রবেশ শুরু করে। বর্তমানে কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও নিচু স্থানের অনেক ঘর, রান্নাঘর ও টয়লেটে এখনো পানি রয়েছে। ফলে অনেক পরিবার এখনো শুকনো খাবারের ওপর নির্ভরশীল।

সরেজমিনে দেখা যায়, বসতঘর থেকে কিছু পানি নেমে গেলেও ঘরের ভেতর এখনো স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ বিরাজ করছে। জলাবদ্ধতার কারণে সাপ ও জোঁকের উপদ্রবও কমেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আশ্রয়ণ পল্লির বাসিন্দা বায়োজিদ হোসেন বলেন, “পানি কিছুটা কমেছে, কিন্তু ঘরের ভেতর এখনো ভেজা পরিবেশ। রান্না করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ছোট শিশুদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় আছি।”

মরিয়ম বেগম বলেন, “প্রশাসনের দেওয়া শুকনো খাবার কিছুটা সহায়তা করেছে। তবে পানি পুরোপুরি না নামা পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে থাকা সম্ভব নয়। আরও সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।”

পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দি ২০০ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার, স্যালাইন ও মোমবাতি বিতরণ করা হয়েছে। খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, মৈনম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছার রহমান, মৈনম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহারুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, আশ্রয়ণ পল্লিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে সামান্য ভারী বর্ষণেই একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

আরও খবর

Sponsered content