প্রতিনিধি ২৬ জুলাই ২০২৬ , ১১:১১:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের পর আজ রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবন থেকে বিদায় নিয়ে তিনি সপরিবারে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন। শিগগিরই চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যাবেন।
গতকাল শনিবার সাবেক এই রাষ্ট্রপতি দেশের একটি গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।
সাবেক এই রাষ্ট্রপতি জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি শিগগিরই সিঙ্গাপুর বা ব্যাংককে যাবেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক জটিল রোগে ভুগছেন। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ থাকায় তাকেও সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসার জন্য যাবেন বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, বঙ্গভবন ত্যাগের প্রস্তুতি হিসেবে গত কয়েক দিন ধরেই তার ব্যক্তিগত মালামাল গুলশানের বাড়িতে স্থানাস্তর করা হয়েছে এবং বাসভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজও শেষ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তবে তিনি বঙ্গভবনে বসবাস করবেন না; জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই তিনি অবস্থান করবেন। সেখান থেকেই বঙ্গভবনে গিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই শুক্রবার থেকে স্পিকারের বাসভবন ও এর আশপাশে রাষ্ট্রপতির বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আজ রোববার সকালে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরবর্তীকালে শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন বসবে এবং সেই অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। ফলে আপাতত কোনো বিশেষ অধিবেশনের প্রয়োজন হচ্ছে না।
অন্যদিকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন- সে বিষয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তারা জানান, সংবিধান ও আইন মেনে যথাসময়ে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।





















