বিনোদন

সুপারমডেল সিন্ডি ক্রফোর্ডের ছেলে মডেল প্রিসলি গারবারের মৃত্যু

  প্রতিনিধি ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২:১৪:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ

মাত্র ২৭ বছর বয়সে মারা গেছেন মার্কিন সুপারমডেল সিন্ডি ক্রফোর্ডের ছেলে ও মডেল প্রিসলি গারবার। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ক্রফোর্ডের প্রতিনিধি। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় জানিয়েছে, রোববার একটি পুনর্বাসনকেন্দ্রে গারবারের মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি।

ক্রফোর্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই অত্যন্ত কঠিন ও বেদনাদায়ক সময়ে পরিবারটি গোপনীয়তা কামনা করছে।’

১৯৯৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া প্রিসলি ছিলেন সিন্ডি ক্রফোর্ড ও ব্যবসায়ী র‍্যান্ডি গারবারের দুই সন্তানের একজন। তার ছোট বোন কাইয়া গারবারও একজন মডেল। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ইতালীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড মোসচিনোর হয়ে র‍্যাম্পে হাঁটার মাধ্যমে মডেলিংয়ে অভিষেক হয় প্রিসলির।

পরবর্তী সময়ে বারবেরি, ডলচে অ্যান্ড গাব্বানা, বোটেগা ভেনেতা, টমি হিলফিগার ও রালফ লরেনের মতো ব্র্যান্ডের হয়ে মডেলিং করেন তিনি। ক্যালভিন ক্লেইন, সেলিন, পেপসি ও ওমেগার বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন। তার ছবি প্রকাশিত হয়েছে জিকিউ স্টাইল ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস স্টাইল ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন সাময়িকীতে।

মডেলিংয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা হিসেবেও কাজ করেছেন গারবার। ২০১৯ সালে ডিএনএ মডেল ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদকাসক্তি নিয়ে নিজের সংগ্রামের কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন গারবার। ২০২৩ সালে ‘স্টুডিও ২২’ পডকাস্টে তিনি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে নিজের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কথা জানান। নিজের উদ্যোগে ‘মেন্টাল হেলথ মানডেস’ কর্মসূচিও চালু করেছিলেন তিনি এবং গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করা ‘এ সেন্স অব হোম’সহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

গত ডিসেম্বরে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে প্রেসক্রিপশন ওষুধ, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট এবং আতঙ্কজনিত সমস্যার জন্য জ্যানাক্স ব্যবহারের কথা জানিয়েছিলেন গারবার। পরে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়। সেই পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে জীবনে নানা ধরনের ক্ষতির কথাও উল্লেখ করেছিলেন।

ওই সময় ছেলের পোস্টে সিন্ডি ক্রফোর্ড লিখেছিলেন, ‘প্রিসলি আমরা তোমাকে ভালোবাসি এবং তুমি একা নও।’

গত জুলাইয়ে ছেলের ২৭তম জন্মদিনে ক্রফোর্ড ফেসবুকে লিখেছিলেন, তিনি তার ছেলের বেড়ে ওঠায় গর্বিত, যদিও মায়ের চোখে তিনি সবসময়ই ছোট্টটিই হয়ে থাকবেন।

চলতি মাসে আমেরিকান ভোগের সেপ্টেম্বর সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে প্রিসলির মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই নিয়ে কথা বলেন তার বোন কাইয়া। পরিবারের কঠিন পরিস্থিতি তাকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে, সে কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ভাইকে পরিবারের একজন ‘শিক্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করে কাইয়া বলেন, প্রিসলি সবার সামনে নিজের মানবিক দিক তুলে ধরতে পিছপা হননি।