প্রতিনিধি ৭ নভেম্বর ২০২৬ , ৫:২৬:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নিয়ে গণভোটের রায় অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলেছে, জনগণের গণরায় অস্বীকার করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করলে একদিন ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
আজ শনিবার ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এনসিপি এ আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী, সেক্টর কমান্ডার ও স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এনসিপি বলেছে, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বিকাশ এবং এ দেশের মানুষের আত্মত্যাগকে বারবার আঞ্চলিক পরাশক্তি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের অকুতোভয় জনগণ কখনো সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান, কখনো জুলাই বিপ্লবের মতো ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে আধিপত্য ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে দিয়েছে।
বিবৃতিতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরে বলা হয়, সামরিক পটভূমি থেকে উঠে এসেও তিনি একদলীয় বাকশালি রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে দেশে বহুদলীয় রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে বাকশালি কাঠামো বহাল রেখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রচেষ্টা পুরোপুরি সফল হয়নি।
এনসিপির দাবি, জিয়াউর রহমান সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আদালতের মাধ্যমে সেই সংশোধনী বাতিল করা হয়। দুঃখজনকভাবে জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি এ ইতিহাস থেকে কোনো রাষ্ট্রনৈতিক ও সাংবিধানিক শিক্ষা নেয়নি।
বিবৃতিতে বিএনপির সমালোচনা করে বলা হয়, দলটি জুলাই সনদের মতো সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনকে আবারও অষ্টাদশ সংশোধনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আদালত কিংবা পরবর্তী সংসদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
এনসিপি আরও বলেছে, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের শিক্ষা থেকে বিএনপির উচিত সংবিধানের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কারকে কেবল সংবিধান সংশোধনের সীমিত পরিসরে আটকে রাখার চেষ্টা থেকে সরে আসা। জনগণের গণভোটের রায়কে সম্মান জানিয়ে তা বাস্তবায়নে অবিলম্বে উদ্যোগ নিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে জনগণের গণরায় অস্বীকার করা হলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না। ইতিহাসের কাঠগড়ায় একদিন এর জবাব দিতে হবে।





















