প্রতিনিধি ৭ নভেম্বর ২০২৬ , ২:৪৪:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৬ নভেম্বর রাজধানীর পুরাতন পল্টনে আয়োজিত সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র্যালি করে গণঅধিকার পরিষদ।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে র্যালি শুরু করে নাইটিংগেল মোড়, ফকিরাপুল পানির ট্যাংকি মোড়, দৈনিক বাংলা মোড়, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ঘুরে বিজয় নগর পানির ট্যাংকি মোড়ে এসে শেষ হয়। এতে হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, গণঅধিকার পরিষদ ২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও এর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র সংস্কারের সংগ্রামে গণঅধিকার পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যখন অনেকেই রাজপথে ছিলেন না, তখন গণঅধিকার পরিষদ রাজপথে ছিলো। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করেছেন।
তিনি বলেন, মোদিবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত গণঅধিকার পরিষদের ১২ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। এই দলের ইতিহাস রক্ত, ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস। কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বা ক্ষমতার হিসাব দিয়ে এই আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা যাবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসুন, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক চিন্তার রাজনীতিতে আমাদের সঙ্গে শামিল হোন। বাংলাদেশের রাজনীতি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর আদর্শিক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভারতের বিজেপির মতো কট্টর উগ্রপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। দেশে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার কোনো অপচেষ্টা বরদাসত করা হবে না। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মানুষের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সংকুচিত করার চেষ্টা করা হলে দেশ আবারও গভীর সংকটে পড়বে। ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ রুখতে না পারলে বাংলাদেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিশ্চিত করাই হোক রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার। অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি যেন কোনোভাবেই না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এদিন বক্তব্যের এক ফাঁকে আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদের এককভাবে অংশ নেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।
দলের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) হাসান আল মামুন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট যে গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে, এর জন্ম গণঅধিকার পরিষদের হাত ধরে। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিলো এর ভুল ভিত্তি। শেখ হাসিনার মতো বিশাল শক্তিধর ফ্যাসিস্টের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলো গণঅধিকার পরিষদ। সেই পাটাতনের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আজ বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, যদি তার জোটসঙ্গী গণঅধিকার পরিষদকে যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন না করে এককভাবে বিএনপি যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তার বিপদ আসন্ন। আজকে এই সমাবেশ থেকে গণঅধিকার পরিষদ বিএনপিকে বলতে চায়, তৃণমূলে গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে রাখুন। মনে রাখবেন, এই গণঅধিকার পরিষদ আপনার সবচেয়ে বড় জোটসঙ্গী।
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য শহিদুল ইসলাম ফাহিমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, মুখপাত্র আবু হানিফ, উচ্চতর পরিষদ সদস্য শাকিল উজ্জামান, হানিফ খান সজিব, অ্যাডভোকেট সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, জসিম উদ্দিন আকাশ, আরিফুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান খান, অ্যাাডভোকেট খালিদ হোসেন, সাকিব হোসাইন, হাবিবুর রহমান রিজু, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আব্দুজ জাহের, উত্তরের সভাপতি আব্দুর রহিম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি নাদিম হাসান, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন, নারী অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক সংগীতা হক প্রমুখ।















