প্রচ্ছদ

মাধবপুরে কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রির মহোৎসব

  নাহিদ মিয়া ,মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ।। দৈনিক মতপ্রকাশ ৫ মার্চ ২০২৫ , ৭:১১:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জে মাধবপুরে অবৈধভাবে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রির মহোৎসব চলছে। এক্সক্যাভেটর দিয়ে এসব জমির মাটি ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে ভরাটের কাজে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে আবাদি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় শক্তিশালী একাধিক মাটি ব্যবসায়ী চক্র গড়ে উঠেছে। দরিদ্র কৃষকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা অর্থসংকটের সুযোগ নিয়ে তারা জমির মাটি কিনে নিচ্ছে। ৮-১০ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে নেওয়ায় অনেক জমি পুকুর বা ডোবায় পরিণত হচ্ছে, যেখানে আর ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না।’
এ ছাড়া ড্রাম ট্রাক ও  ট্রাক্টর মাধ্যমে মাটি পরিবহনের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয়দের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
মাধবপুর পৌরসভা, ধর্মঘর, চৌমুহনী, বহরা, আদাঐর, আন্দিউড়া, বুল্লা, ছাতিয়াইন, জগদীশপুর, শাহজাহানপুর, নোয়াপাড়া,  বাঘাসুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে রাতের আঁধারে এক্সক্যাভেটর দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি কাছের ইটভাটায় পাচার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের নীরবতায় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
চৌমুহনী ইউনিয়নে সোনাই নদীর পাড়ও কেটে বিক্রি করা হচ্ছে, যা নদীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলেছে। এতে আঞ্চলিক সড়ক, সেতু ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেওয়ায় পুষ্টি উপাদান কমে গিয়ে উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের মাটি বিক্রি না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।
এ বিষয়ে মাধবপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম জানান, মাটি কাটার অভিযোগ পেলে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এ বিষয়ে আন্তরিক ভাবে কাজ করছে।তবে স্থানীয়দের মতে, কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান না হলে আবাদি জমি ধ্বংসের এই প্রক্রিয়া বন্ধ হবে না।

আরও খবর

Sponsered content