প্রতিনিধি ২ আগস্ট ২০২৬ , ১০:২২:১১ প্রিন্ট সংস্করণ
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অবস্থান এখন বড় ধরনের শঙ্কায়। সংস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাগুলোর মালিকানায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার তার পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ঘিরে বিরোধিতা তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থার সভাপতি ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারেন। একই সঙ্গে এশিয়ার ফুটবল সংস্থার প্রেসিডেন্ট শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফার নামও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন সমালোচনার মুখে থাকলেও এতদিন ইনফান্তিনোর অবস্থান ছিল প্রায় অটুট। তবে বিতর্কিত পরিকল্পনা ঘোষণার পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। ইউরোপের ফুটবল সংস্থা এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা তার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।
ইউরোপের ফুটবল সংস্থা ঘোষণা দিয়েছে, প্রস্তাব প্রত্যাহার না করা হলে তাদের সদস্যভুক্ত ৫৫টি দেশ ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। নেদারল্যান্ডস ফুটবল সংস্থার সভাপতি ফ্রাঙ্ক পাও বলেন, ‘প্রক্রিয়া, সুশাসন ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। এটি অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে।’
এরপর এশিয়ার ফুটবল সংস্থাও ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরব হয়। শুধু বাইরেই নয়, সংস্থার ভেতরেও তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে ইনফান্তিনোর শীর্ষ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো এবং পরিচালনাবিষয়ক পরিচালক কেভিন লামুর পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগের পর লামুর বলেন, ‘একজন সভাপতির কাজ হলো সবাইকে একত্রিত করা, ঐক্য গড়ে তোলা এবং অনুপ্রাণিত করা। কিন্তু এখন আমরা ঠিক উল্টো চিত্র দেখছি। এটি সংস্থার প্রকল্প নয়, পরিচালনা পর্ষদেরও নয়। এটি একজন ব্যক্তির প্রকল্প।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস-এর হিসাব অনুযায়ী, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে মাত্র ৪৩টি দেশের সমর্থন প্রয়োজন। ইউরোপের ৫৫টি দেশই যেহেতু তার পরিকল্পার বিপক্ষে, তাই এমন উদ্যোগ এখন আর অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে না।
অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হলেও ইনফান্তিনো সঙ্গে সঙ্গে পদ হারাবেন না। তবে সেক্ষেত্রে তার দায়িত্বে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
এ অবস্থায় সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন কানাডার ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি। ২০১৬ সালের মে মাস থেকে তিনি উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে আগামী বছরের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাজধানী রাবাতে।
অন্যদিকে, বাহরাইনের শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি এশিয়ার ফুটবল সংস্থার সভাপতি। ইনফান্তিনোর ব্যর্থ পরিকল্পনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভবিষ্যৎ সবসময় বিস্তৃত পরামর্শ, যৌথ আলোচনা এবং প্রতিষ্ঠিত সুশাসনের কাঠামোর প্রতি সম্মান বজায় রেখেই নির্ধারণ করা উচিত।’
এর আগে ফ্রান্সের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের সভাপতি নাসের আল-খেলাইফির নামও সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে শোনা গেলেও, বর্তমানে তার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকায় তিনি এই পদের দৌড়ে নামতে আগ্রহী নন।









