প্রচ্ছদ

গাজায় ৯০০ বারের বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক ৪ মার্চ ২০২৫ , ১০:১৩:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ

১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী ৯০০ বারেরও বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এ তথ্য জানিয়েছে। এসব হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

গাজার মিডিয়া অফিসের মহাপরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা বলেন, ‘এই লঙ্ঘনগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান ও গোলাবর্ষণ হামলা, ব্যাপক ড্রোন তৎপরতা, মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা, সাধারণ নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো, ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা।’

তিনি আরও জানান, ইসরাইল গাজায় জ্বালানি প্রবেশে বাধা দিয়েছে, উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় গাড়ি ও ভারী যন্ত্রপাতি আটকে দিয়েছে এবং ২ লাখ ৬০ হাজার তাঁবু ও অস্থায়ী আবাসন সরঞ্জাম প্রবেশেও বাধা দিয়েছে।

আল-থাওয়াবতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগ করে।

মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১৬ জনে পৌঁছেছে এবং অন্তত ৪৯০ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে, ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে ইসরাইল ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করছে।

তারা ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তের কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘মানবিক সহায়তাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বাড়ানো এবং তাদের ওপর গণহত্যামূলক নীতি প্রয়োগ করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা ইসরাইলকে অবিলম্বে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে বাধ্য করে এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগকে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা বন্ধ করে।

ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা

গাজায় ত্রাণ প্রবেশে ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দেশটির ভেতরেও সমালোচনা বাড়ছে। বন্দিদের পরিবারের পাশাপাশি রাজনীতিবিদরাও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়াইর গোলান বলেন, ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি সরকার যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ ও বন্দি বিনিময় আলোচনা থেকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে।

এমআই

আরও খবর

Sponsered content