ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ২৩ মে ২০২৬ , ১০:১৪:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু চোরাচালান বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তবর্তী এলাকাবাসীর দাবি, গভীর রাতে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট ব্যবহার করে অবৈধভাবে গরু বাংলাদেশে আনা হচ্ছে এবং পরে সেগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশীয় খামারি, সচেতন নাগরিক ও সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার বালিয়াডাঙ্গী, রাণীশংকৈল ও পীরগঞ্জের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা বর্তমানে গরু চোরাচালানের অন্যতম রুটে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বালিয়াডাঙ্গীর রত্নাই সীমান্ত, আমজানখোর, ধনতলা ইউনিয়ন সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা এবং রাণীশংকৈলের ধর্মগড় ও জগদ্দল সীমান্ত দিয়ে গভীর রাতে ভারতীয় গরু প্রবেশ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশ্যে একাধিক গরুবাহী ট্রাক চলাচল করছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব গরুর একটি বড় অংশ ভারতীয়। গরুর শারীরিক গঠন, জাত ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য দেখে তা শনাক্ত করা সম্ভব বলেও জানিয়েছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমান্তবর্তী এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতীয় গরু দেশে ঢোকাচ্ছে। গভীর রাতে সীমান্তের ফাঁকা পয়েন্ট ব্যবহার করে গরু এনে পরে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।”
বালিয়াডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন গভীর রাতে গরুর পাল সীমান্ত অতিক্রম করতে দেখা যায়। কয়েকদিন আগেও রাতের বেলায় কয়েকটি গরুর দল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে দেখেছি।”
এদিকে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় খামারিরা। তাদের আশঙ্কা, বিদেশি গরুর কারণে বাজারে দেশীয় গরুর দাম কমে যেতে পারে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার খামারি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “সারা বছর ঋণ করে গরু পালন করি। ঈদের আগে যদি ভারতীয় গরু বাজারে আসে, তাহলে দেশীয় খামারিরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম বলেন, “ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে নিরুৎসাহিত করবে।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইজাহার আহমেদ খান বলেন, “সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গরু প্রবেশ স্থানীয় অর্থনীতি ও খামারিদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এতে দেশীয় খামারিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।”
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজীর আহম্মদের বক্তব্য পাওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে ভিডিও দেখে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গরু প্রবেশ শুধু অর্থনীতির জন্য নয়, আইন-শৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। দেশীয় খামার শিল্প রক্ষায় প্রশাসন, বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।




















