সারাদেশ

মহাখালীতে পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ভিডিও ধারণে বাধা ও সাংবাদিকদের হুমকি

  নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৩ মে ২০২৬ , ৯:৪০:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর মহাখালী আমতলী এলাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা কোরবানির পশুবাহী ট্রাকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও বেপারিদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করতে গেলে সংবাদকর্মীদেরও হুমকি ও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত বুধবার (২২ মে) রাতে মহাখালী আমতলী সেতু ভবন সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকামুখী পশুবাহী ট্রাকগুলো আমতলী এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক ট্রাক থামিয়ে দেয়। তাদের গলায় ‘তেজগাঁও গরুর হাটের আইডি কার্ড’ ঝুলতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই পরিচয় ব্যবহার করেই তারা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে।

ভুক্তভোগী চালক ও ব্যবসায়ীরা জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা দরকষাকষি করলে চালক ও বেপারিদের ওপর চড়াও হয় ওই চক্র। অনেককে মারধর এবং ট্রাক আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মূল সড়কে প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

ঘটনাস্থলে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সেতু ভবনের পাশেই একের পর এক গরুবাহী ট্রাক থামিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক যুবক সংবাদকর্মীদের বাধা দেয় এবং নিজেকে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি দাবি করে ক্যামেরা বন্ধ করতে চাপ প্রয়োগ করে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে হুমকিমূলক ভাষায় এলাকা ছেড়ে যেতে বলেন। পরে আরও কয়েকজন যুবক এসে সংবাদকর্মীদের ঘিরে ধরে দ্রুত স্থান ত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

ঘটনার বিষয়ে বনানী থানায় যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন।

থানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের শনাক্তের কাজ চলছে। সাংবাদিকদের হুমকি এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন,“যেখানেই এ ধরনের অপরাধ বা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটবে, তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে হবে। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”

ঈদকে সামনে রেখে পশুবাহী ট্রাকে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি এবং সংবাদকর্মীদের হুমকির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে পশু পরিবহন ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content