প্রতিনিধি ২৩ মে ২০২৬ , ১২:৪৮:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
চলতি বছরের শেষে হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য ডেড লাইন ঘোষণার পরই নড়েচড়ে বসেছেন মাঠ পর্যায়ের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। থেমে নেই শ্রীপুর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীগন।
এ নির্বাচনে মাঠে নেই চির প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। বিজয়ের পাল্লা বিএনপির দিকেই। সম্ভাব্য প্রর্থীর তালিকায় রয়েছেন ১৩ জন। এতেই নির্বাচনী ফলাফলে বাঁক বদল স্পষ্ট।
এদিকে বিএনপির প্রার্থীর তালিকা দীর্ঘ হলেও বিরোধী দল শরিক দলগুলোর একক প্রার্থীর সম্ভাবনা বেশী। ইতোমধ্যেই বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীগন পোষ্টার, ব্যানার, ফেষ্টুন দিয়ে নিজেদের প্রার্থীতার জানান দিচ্ছেন। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। দলীয় সমর্থন পেতে দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন দলের বিভিন্ন মহলে। ক্রমেই আসন্ন পৌরনির্বাচনের আলোচনার আড্ডা জমে উঠতে শুরু করেছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের তৃতীয় বৃহত্তম পৌরসভা শ্রীপুর। শুরু থেকেই মেয়রের চেয়ার দখলে রেখে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আনিছুর রহমান। টানা ৪টি নির্বাচনে তিনি বিজয় অর্জণ করেন। ২০২৪ সালে ৫ আগষ্ট-এর ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর মাঠে নেই অওয়ামী লীগ। আত্মগোপনে রয়েছেন ৪ বারের নির্বাচিত মেয়র আনিছুর রহমান।
আসন্ন নির্বাচনে পৌর পিতার চেয়ার দখলের সমুহ সুযোগ বিএনপির। তবে, সে সুযোগ ভেস্তে যেতে পারে দলটির প্রার্থীর সংখ্যাধিকের কারণে। এমনটি সাধারণের ধারণা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কর্মী সমর্থকরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে দিচ্ছেন নির্বাচনে আগাম বার্তা।
ভোটের মাঠে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ইসলামি দলসহ অন্য দলীয় প্রার্থীদের ভোট যুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁক বদলের সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপির ডজনের বেশী প্রার্থীতা থাকায়। একক প্রার্থী না হলে মেয়রের পদ হারানোর শঙ্কায় আছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নবীন প্রবীন নেতৃবৃন্দ প্রার্থী জানান দিচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক অনুষ্ঠানে। বাদ পড়ছে না বিয়ে জানাজার মতো পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান। কেউবা করছেন সমাজ সেবামূলক কাজ । বিভিন্নস্থানে শোভা পাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন। এগুলো টানিয়ে নিজেকে তুলে ধরছেন ভোটারদের কাছে।
প্রচারণায় অংশ নেওয়া বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীপুর থানা বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা এসএম রহুল আমীন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আব্দুল মোতালেব, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ড. মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. খায়রুল কবির মন্ডল আজাদ, পৌর বিএনরি সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী, ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বেপারী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খোকন প্রধান, উপজেলা শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন প্রধান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল হক মোল্লা, জেলা বিএনপির সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শরীফ মোহাম্মদ সিদ্দিকী, জেলা কৃষকদলের আহবায়ক আলহাজ্ব এস.এম.আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ছাত্রদল নেতা নাসিম মন্ডল ও শ্রীপুর পৌর বিএনপির প্রয়াত সভাপতি কাজী খানের ভাতিজি ব্যারিস্টার সাম্মিয়া সুলতানা নিশা।
প্রচারণায় থাকাদের মধ্যে বেশীর ভাগই ৫ আগষ্ট’ ২৪ বা বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর প্রার্থীতার জানান দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরেই মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাজনৈতিক সামাজিক ক্রীড়া সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেকে তুলে ধরছেন। পাল্লা দিয়ে মাঠে রয়েছেন আনোয়ার হোসেন ব্যাপারীও। কিছুতেই মাঠ ছাড়তে নারাজ। নিজেকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন।
এছাড়া থেমে নেই জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খোকন প্রধানও। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন ওয়াডের্র রাজনৈতিক সামাজিক ক্রীড়া সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেকে তুলে ধরছেন। অংশ নিচ্ছেন সমাজ সেবায়। জানান দিচ্ছেন নিজের মাদক-সন্ত্রাস বিরোধী অবস্থানের কথা। পাল্লা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন অন্যান্য প্রার্থীরাও ।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামী, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামি ঐক্যজোটসহ বিরোধী দলগুলোর একক প্রার্থীর সম্ভাবনা রয়েছে। এসব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে তেমন সরব নয়।
উল্লেখ্য ৪৭.৫ বর্গ কিমি আয়তনের দেশের র্ততীয় বৃহত্তম গ শেণীর শ্রীপুর পৌরসভা ২০০০ সালে গঠিত হয়। দীর্ঘ সতেরো বছরের ব্যবধানে এটি ক শ্রেণীতে উন্নিত হয়। পৌর সভার ৯টি ওয়ার্ড ভোটার ৭৭ হাজার ১৮০ জন। ৩৮ হাজার ১৫০ জন পুরুষ ও ৩৯ হাজার ৩০ জন নারী ভোটার রয়েছেন। ২০০২সালে নির্বাচনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা মো. আনিছুর রহমান। জয়ের ধারা ধরে রেখে তিনি টানা চারবার মেয়র নির্বাচিত হন। গত ৫ আগষ্ট’২৪ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান আনিছুর রহমান। সেই থেকে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
পৌরবাসীর চাওয়া নবনির্বাচিতরা শ্রীপুর পৌরসভাকে আধুনিক জবাবদিহিমূলক দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন। জনভোগান্তির মধ্যে যানজটমুক্ত জলাবদ্ধতা নিরসন, অপরিকল্পিত নগরায়ন বন্ধ, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত দখল মুক্ত করা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ পরিবেশ বান্ধব পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন।














