প্রতিনিধি ২৩ মে ২০২৬ , ১০:২৯:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান কোচ হিসেবে প্রায় এক দশকের পথচলার ইতি টানলেন পেপ গার্দিওলা। তিনি শুধুই একজন ফুটবল ম্যানেজার নন—তিনি তার উচ্চপ্রোফাইল অবস্থান ব্যবহার করে নিজের হৃদয়ের কাছের বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক ইস্যু তুলে ধরেন।
লিভারপুলের কিংবদন্তি কোচ বিল শ্যাঙ্কলি একসময় বলেছিলেন ফুটবল জীবন-মৃত্যুর চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে গার্দিওলার ক্ষেত্রে ‘সুন্দর খেলা’ ফুটবলের বাইরেও অনেক বিষয় প্রায় সমান গুরুত্ব বহন করে।
৫৫ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ কোচ দশ বছরে ম্যানচেস্টার সিটিকে ২০টি শিরোপা জিতিয়ে আগামী রোববার দলটির ডাগআউট থেকে সরে দাঁড়াবেন।
ফিলিস্তিনের শিশুদের দুর্দশা, কাতালুনিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলন এবং যুক্তরাজ্যে গৃহহীনতা—এসব নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
তিনি বারবার বলেছেন, নিজের অবস্থান ব্যবহার করে ‘আরও ভালো সমাজ গঠনের জন্য কথা বলা’ তার দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে গাজার ফিলিস্তিনি শিশুদের নিয়ে তার আবেগপূর্ণ বক্তব্য। ইসরায়েলের সঙ্গে দুই বছরের যুদ্ধের পর তাদের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
যুদ্ধটি শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলার পর। এরপর গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, যেখানে অন্তত ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছে শিশু থেকে কিশোর-কিশোরীরা।
বর্তমানে লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষ তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছে, আর যুদ্ধবিরতির পরও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
এই মানবিক বিপর্যয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক প্রাক-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলন বাদ দিয়ে বার্সেলোনায় একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, ‘গত দুই বছরে সামাজিক মাধ্যমে, টেলিভিশনে আমরা যে শিশুদের দেখি, যারা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাঁদছে—‘আমার মা কোথায়?’ বলে প্রশ্ন করছে—এই দৃশ্য দেখে আমি ভাবি, তারা কী ভাবছে? আমার মনে হয় আমরা তাদের একা ফেলে দিয়েছি।’
তবে তার এই অবস্থান প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনারও জন্ম দেয়। ম্যানচেস্টারের ইহুদি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তার কিছু মন্তব্যের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি ক্লাব সভাপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, তার মন্তব্য শহরের ইহুদি বাসিন্দাদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে গার্দিওলা তার অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসেননি। এর আগেও ২০১৮ সালে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাকামী রাজনীতিকদের সমর্থনে হলুদ রিবন পরার কারণে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে অর্থদণ্ড দিয়েছিল।
শুধু ফিলিস্তিন নয়, ইউক্রেন, সুদান এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সংস্থার হাতে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনাতেও তিনি নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যখন কোনো ধারণা বাস্তবায়নের জন্য হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে হয়, আমি সেখানে দাঁড়াব। সব সময়ই আমি দাঁড়াব।’
তবে ম্যানচেস্টারে একটি সিনাগগে সন্ত্রাসী হামলার পর দুইজন নিহত হলেও সেই ঘটনায় তার সরাসরি মন্তব্য না থাকায় কিছু ইহুদি সংগঠন তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে।
ফুটবলের বাইরেও তিনি সামাজিক কাজে সক্রিয়। তার গার্দিওলা সালা ফাউন্ডেশন যুক্তরাজ্যে গৃহহীনতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ম্যানচেস্টারে একটি ফাইভ-এ-সাইড ফুটবল টুর্নামেন্টে সহায়তা করে আসছে।
তিনি বলেন, ‘ফুটবল কীভাবে মানুষকে একত্রিত করতে পারে এবং কঠিন সময় অতিক্রম করতে সাহায্য করতে পারে, তা দেখা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’





















