আন্তর্জাতিক

ইরান সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

  প্রতিনিধি ২৭ আগস্ট ২০২৬ , ১:১০:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে বৃহস্পতিবার তেহরান সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ইরানের প্রতিবেশী এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কাতার দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। গত জুনে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে কাতার সরাসরি ভূমিকা রেখেছিল। তবে যুদ্ধবিরতি সাময়িকভাবে সংঘাত থামালেও এখনো কোনো বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়নি। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাসের মাথায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি লড়াই অনেকটাই থেমে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ বিরোধগুলোর সমাধান হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিরোধের জায়গা হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ, যেটিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি অজ্ঞাত বস্তু একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হানার পর আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও জাহাজটির সব ক্রু নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কিন্তু সংঘাতের পর থেকে এই পথে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সর্বশেষ জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার প্রণালিটি দিয়ে মাত্র ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে যেত।

হরমুজ নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যেও কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক মুখপাত্র বুধবার দাবি করেন, প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও এর রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে ইরান ও ওমান একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে।

তবে পরে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে কিছুটা অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।

ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি দাবি করেন, প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশ এমন কিছু ফলাফলে পৌঁছেছে, যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য।

তিনি আরও বলেন, জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান সফরে কাতারের প্রধানমন্ত্রী দেশটির মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় আসবে।

তিনি আরও জানান, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং সংলাপের উপযোগী পরিবেশ তৈরির উপায় নিয়েও আলোচনা করবেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে যুদ্ধের পর থেকে ইরান প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। তেহরান সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কমিশন বা ফি নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে, যার বিরোধিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও খবর

Sponsered content