আন্তর্জাতিক

তেহরানে খামেনির জানাজা, লাখো মানুষের ঢল

  প্রতিনিধি ৫ জুলাই ২০২৬ , ১১:১৪:১০ প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা উপলক্ষে রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। আজ রোববারজানাজার নামাজ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রার্থনাস্থলের ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এর সব প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, গ্র্যান্ড মোসাল্লার ভেতরে আর জায়গা না থাকায় আশপাশের সড়ক ও খোলা স্থানেও উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শোকাহত মানুষ শেষবারের মতো আলী খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে এবং জানাজার নামাজে অংশ নিতে সেখানে জড়ো হন।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পাশাপাশি তার পরিবারের আরও চার সদস্যেরও জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই ঘটনায় নিহত সদস্যের মরদেহও গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হয়েছে।

জানাজার নামাজে ইমামতি করছেন আয়াতুল্লাহ শেখ জাফর সোবহানি। খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য পৃথকভাবে তিন দফায় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ইরানের বিভিন্ন শহরে খামেনিকে স্মরণ করে শোকসভা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি পালিত হয়। তেহরানে অনুষ্ঠিত এই জানাজাকে জাতীয় শোক অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় পর্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধির অংশগ্রহণে ইরান সন্তুষ্ট। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি, বিশেষ করে আরব দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ইরানের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ এবং এই স্মরণানুষ্ঠান পারস্পরিক সম্পর্কের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তেহরানের গ্র্যান্ড প্রেয়ার গ্রাউন্ডে শুরু হওয়া এক সপ্তাহব্যাপী শেষকৃত্য কর্মসূচিতে লাখো মানুষের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন। ৯ জুলাই পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিশেষ দূতদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তোলে এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

আরও খবর

Sponsered content