আন্তর্জাতিক

জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থী দলের সম্মেলন ঘিরে বিক্ষোভ

  প্রতিনিধি ৫ জুলাই ২০২৬ , ১১:৪৩:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

জার্মানির কট্টর ডানপন্থি ও অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)–এর বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে পূর্বাঞ্চলীয় শহর এয়ারফোর্টে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী সম্মেলনস্থলে যাওয়ার প্রধান সড়ক অবরোধ করলে শহরজুড়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার শুরু হওয়া এএফডির দুই দিনব্যাপী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, সামাজিক সংগঠন এবং বামপন্থি রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকেরা এয়ারফোর্টে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

দাঙ্গা দমন সরঞ্জামে সজ্জিত পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও বিক্ষোভকারীরা সম্মেলনকেন্দ্রে যাওয়ার মহাসড়ক ও বিভিন্ন সড়কে সারিবদ্ধভাবে বসে অবরোধ করেন। পুলিশের হিসাবে, এয়ারফোর্ট ও আশপাশের এলাকায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিক্ষোভে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশ নেন।

সম্মেলনের শুরুতেই দলের সহসভাপতি আলিস ভাইডেল ও টিনো ক্রুপালা পুনর্নির্বাচিত হন। তাদের নেতৃত্বেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এএফডির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ জনমত জরিপে দলটি ভোটারদের সমর্থনের দিক থেকে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল জোটকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে এএফডি নেতারা বিক্ষোভকারীদের ‘গণতন্ত্রবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তাদের কড়া সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, চলতি বছরের আঞ্চলিক নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এএফডি ক্ষমতায় আসতে পারে। তাদের ভাষ্য, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং জার্মানিকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সম্মেলন শুরুর কয়েক মিনিট আগে দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্প্রচারে অভিবাসনবিরোধী বার্তাসংবলিত ‘সেন্ড দেম ব্যাক’ গান বাজানো হয়। এছাড়া সম্মেলনকেন্দ্রের ভেতরে পুরোনো ধাঁচের নকশায় তৈরি বিভিন্ন কার্ড বিক্রি করা হয়, যার কয়েকটিতে লেখা ছিল, ‘ইউ উইল বি ডিপোর্টেড’ (তোমাদের বের করে দেওয়া হবে)।

এএফডির এমন কর্মকাণ্ডকে ঘিরে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, দলটি অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিভাজনমূলক রাজনীতি উসকে দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, এএফডির জনসমর্থন বেড়ে প্রায় ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের নেতৃত্বাধীন সিডিইউ/সিএসইউ রক্ষণশীল জোটের সমর্থন প্রায় ২২ শতাংশ। এই ব্যবধান জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে এএফডির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content