খেলাধুলা

ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে কার পাল্লা ভারী, জানাল সুপার কম্পিউটার

  প্রতিনিধি ৫ জুলাই ২০২৬ , ১:৫৫:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে রোববার মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ইউরোপের দল নরওয়ে। ম্যাচটি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপ্টা সুপার কম্পিউটার জানিয়েছে ম্যাচের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ।

ম্যাচটি সামনে রেখে অপ্টা সুপার কম্পিউটার ২৫ হাজারবার সিমুলেশন চালিয়ে সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করেছে। সেই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি- ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ছাড়া নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফলাফল না আসার বা ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে লড়াই গড়াতে পারে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে।

সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার দৌড়ে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে সেলেসাওরা। অপ্টার হিসাবে, ব্রাজিলের শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে নরওয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এই ম্যাচের বিজয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকো অথবা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।

শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে নিজেদের আগের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ার পর কাসেমিরোর সমতাসূচক গোলে ম্যাচে ফেরে তারা। পরে একেবারে অন্তিম মুহূর্তে ব্রুনো গিমারায়েসের বাড়ানো বলে জয়সূচক গোল করেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। ২-১ ব্যবধানের সেই জয়েই শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ব্রাজিল।

ওই ম্যাচে অ্যাসিস্ট করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা চারটিতে উন্নীত করেন ব্রুনো গিমারায়েস। ১৯৬৬ সালের পর এক বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে এর চেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করার কীর্তি রয়েছে শুধু কিংবদন্তি পেলের। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে পেলে ছয়টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।

অন্যদিকে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় নরওয়ে। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে আর্লিং হালান্ডের করা জয়সূচক গোলটি শুধু দলকে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্নই দেখায়নি, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নরওয়ের ইতিহাসে প্রথম জয়ের রেকর্ডও এনে দিয়েছে। এর আগে ১৯৩৮ ও ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে খেললেও দুইবারই ইতালির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

তবে নকআউট পর্বের ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নিজেদের সর্বশেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জয় পেয়েছে সেলেসাওরা। এই পর্যায়ে তাদের একমাত্র বিদায় এসেছিল ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে, যখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় তারা।

পরিসংখ্যান, ইতিহাস এবং বর্তমান ফর্ম- সব দিক থেকেই ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও নরওয়ের আক্রমণভাগে আর্লিং হালান্ডের উপস্থিতি ম্যাচটিকে অনিশ্চয়তায় ভরিয়ে তুলেছে। ফলে শেষ আটে জায়গা করে নিতে দুই দলের মধ্যকার লড়াইটি হতে পারে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ।

আরও খবর

Sponsered content