আইন-আদালত

সালমান শাহ হত্যা ৫ দিনের রিমান্ডে ডন

  প্রতিনিধি ২৭ আগস্ট ২০২৬ , ২:১০:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান এই রিমান্ড আবেদন করেন।

এদিন শুনানিকালে ডনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

বহুল আলোচিত এই মামলায় ডনের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ভিকটিমের মা মামলার ঘটনার পর থেকে অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৎপর রয়েছেন। এমতাবস্থায় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের ডনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

ডন অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির লোক। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার ঘটনায় জড়িত অপরাপর সহযোগী আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। তাই মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ও নিবিড়ভাবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আর ডনের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৌশলে, কী কারণে ও কার ইন্ধনে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছিলন- এ সংক্রান্ত তথ্য উদঘাটনসহ মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডনের পক্ষে আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল রিমান্ড বাতিল পূর্বক জামি চেয়ে শুনানি করেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

গত ৯ অগাস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ অগাস্ট জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়।

গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।

ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কিন্তু পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান। তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তখন আদালত মামলাটি র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তিতে ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ ইমরুল কায়েশ র‌্যাবের তদন্ত বাতিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে তদন্ত করতে বলে।

চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআইও হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ হয়নি মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট ন হয়ে নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে নারাজি দিয়ে পুনঃতদন্ত চান। কিন্তু সিএমএম আদালত ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর নারাজি আবেদন নাকচ করে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।

এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে রিভিশন দায়ের করেন।২০২৫ সালের ২০ জুন ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রিভিশন গ্রহণ করে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা গ্রহণ করতে রমনা মডেল থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়।

সে অনুযায়ী গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করা হয়।

আরও খবর

Sponsered content