সারাদেশ

তীব্র শীতেও মেহেরপুরে কঠোর নিয়মে চলছে স্কুল কার্যক্রম, বিপাকে অভিভাবকরা

  মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ ৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৭:৫৮:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ

মেহেরপুরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার মধ্যেও কঠোর নিয়ম-কানুনে স্কুল কার্যক্রম চলায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন ছোট শিশুদের অভিভাবকরা। দিনের পর দিন শীতের প্রকোপ বাড়লেও এখনো পর্যন্ত স্কুল ছুটি বা সময়সূচি পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা না থাকায় অভিভাবকদের ভোগান্তি বাড়ছে।

সকালের কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার মধ্যে শিশুদের স্কুলে পাঠাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন অভিভাবকরা। অনেকেই জানান, ছোট শিশুদের শরীর শীত সহ্য করতে না পারায় জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবুও নিয়মের বাধ্যবাধকতায় সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে।

এক অভিভাবক বলেন, “চরম নিয়মের মধ্যে সবকিছু চলছে। শীতের তীব্রতা বাড়লেও স্কুল ছুটির কোনো নির্দেশনা নেই। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।” আরেক অভিভাবকের অভিযোগ, শীতের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ উপস্থিতি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে।

আজ মঙ্গলবার মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ে সাময়িক ছুটি ঘোষণা অথবা ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত দিকনির্দেশনা দেওয়া জরুরি। অন্যথায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবদুর রাহীম জানান, “কেন্দ্র থেকে এখনো স্কুল বন্ধ বা সময়সূচি পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছাড়া জেলা পর্যায়ে বিদ্যালয় বন্ধ করার সুযোগ নেই।”

এদিকে চিকিৎসকরা শীতজনিত রোগ, বিশেষ করে নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও জ্বর থেকে রক্ষা পেতে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত কষ্টকর হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে যারা সকালের শিফটে পড়াশোনা করে তাদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্ভোগের।

আরও খবর

Sponsered content