আইন-আদালত

প্রতারণার মামলায় কারাগারে বিদিশা সিদ্দিক

  প্রতিনিধি ২৬ আগস্ট ২০২৬ , ৫:০৪:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন। শুনানিতে একই সঙ্গে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চলতি বছরের ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এ মামলার সাজা পরোয়ানায় পলাতক বিদিশাকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানান গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন।

আজ বেলা ১১টার দিকে গুলশান থানা পুলিশ বিদিশাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। আদালতের আনার পর তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

শুনানিকালে বিদিশার পক্ষে আইনজীবী আতিকুর রহমান আপিলের শর্তে বিশেষ বিবেচনায় জামিন চান। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘মামলাটিতে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল। পরে তা ভ্যাকেট হয়ে আসে। তার অনুপস্থিতিতে বিচার হয়ে রায় হয়। আপিলের শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করছি।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘২৫টা বছর মামলায় তিনি কোর্টকে অশ্রদ্ধা করেছেন। মামলা চলছে জেনেও আদালতে আসেননি। তার জামিনের বিরোধিতা করে কারাগারে আটক রাখার প্রার্থনা করছি।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলামও জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিদিশাকে আদালতের হাজখানায় রাখা অবস্থায়ই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় ওই মামলা করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। লোক মারফত তথ্য পেয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মাদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ‘৮০ লাখ টাকায় চুক্তি’ হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেননি বিদিশা।

মামলায় বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

আরও খবর

Sponsered content