খেলাধুলা

বর্ষসেরা খেলোয়াড় ব্রুনো ফার্নান্দেজ

  প্রতিনিধি ২৬ আগস্ট ২০২৬ , ২:১২:১১ প্রিন্ট সংস্করণ

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ ২০২৫-২৬ মৌসুমের পিএফএ বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। দুর্দান্ত একটি মৌসুমে তিনি সর্বোচ্চ গোল সহায়তার নতুন প্রিমিয়ার লিগ রেকর্ড গড়েছেন।

মৌসুমের শেষ দিনে ব্রাইটনের বিপক্ষে প্যাট্রিক দোরগুর হেডে গোল করাতে সহায়তা করে ফার্নান্দেজ ২১তম গোল সহায়তা পূর্ণ করেন। এর মাধ্যমে থিয়েরি অঁরি ও কেভিন ডি ব্রুইনের যৌথভাবে গড়া ২০টি গোল সহায়তার আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান তিনি।

এর আগে প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড় এবং ফুটবল লেখকদের সংগঠনের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছিলেন ফার্নান্দেজ। এবার ম্যানচেস্টারের অপেরা হাউসে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খেলোয়াড়দের ভোটে নির্বাচিত মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি জিতে মৌসুমের ব্যক্তিগত পুরস্কারের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।

২০১০ সালে ওয়েইন রুনির পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পিএফএ বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেন ফার্নান্দেজ।

পুরস্কার জয়ের পর ফার্নান্দেজ বলেন, ‘এটি জেতা এবং প্রতি সপ্তাহে যারা আমার বিপক্ষে মাঠে নামে, তাদের ভোটে নির্বাচিত হওয়া আমাকে ভীষণ গর্বিত করে।’

তিনি বলেন, ‘তারা আমার বিপক্ষে খেলেছে, আমি কী করতে পারি তা তারা দেখেছে। এরপরও তারা আমাকে ভোট দিয়েছে। এ জন্য আমি তাদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’

ফার্নান্দেজ আরও বলেন, ‘এ ধরনের পুরস্কারে ক্লাবের নাম দেখতে সবসময়ই ভালো লাগে। ক্লাবের সমর্থন ও পেছনে থাকা শক্তির কারণেই খেলোয়াড়রা নিজেদের তুলে ধরতে পারে। আমাদের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

‘আমি আশা করি, এখন থেকে আমাদের ক্লাবের আরও অনেক খেলোয়াড় এ ধরনের স্বীকৃতি পাবে। কারণ এটিও গুরুত্বপূর্ণ এবং এর অর্থ হলো আমরা খুব ভালো কিছু করছি। ব্যক্তিগতভাবে আপনি এসব পুরস্কার পেতে চান, যাতে বোঝা যায় আপনার পারফরম্যান্স দলকে সাহায্য করছে এবং দলের জন্য আপনি অনেক ভালো কিছু করছেন।’

পর্তুগালের এই মিডফিল্ডারই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে পিএফএর প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন। একাদশে ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের বাইরে ফার্নান্দেজের সঙ্গে জায়গা পেয়েছেন শুধু ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগো।

আর্সেনালের ডেভিড রায়া, গ্যাব্রিয়েল, উইলিয়াম সালিবা, জুরিয়েন টিম্বার ও ডেকলান রাইস একাদশে জায়গা পেয়েছেন। ম্যানচেস্টার সিটির নিকো ও’রেইলি, রায়ান শেরকি, অঁতোয়ান সেমেনিও ও আর্লিং হলান্ডও রয়েছেন এই দলে।

গত বছর পিএফএ বর্ষসেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন মোহাম্মদ সালাহ। তবে এবার লিভারপুলের কোনো খেলোয়াড় বর্ষসেরা একাদশে জায়গা পাননি।

ম্যানচেস্টার সিটির নিকো ও’রেইলি পুরুষদের বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন। সতীর্থ রায়ান শেরকি ছাড়াও ম্যাক্স ডাউম্যান, জুনিয়র ক্রুপি, কোবি মাইনু ও রিও এনগুমোহাকে পেছনে ফেলেছেন তিনি।

চ্যাম্পিয়নশিপের বর্ষসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন এভারটনের হেইডেন হ্যাকনি। মে মাসে মিডলসব্রোর প্লে-অফ ফাইনালে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। শৈশবের ক্লাবের হয়ে শীর্ষ বিভাগে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করার পর জুলাইয়ে ডেভিড ময়েসের দলে যোগ দেন হ্যাকনি।

লেটন ওরিয়েন্টের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে তৃতীয় বিভাগের বর্ষসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ডম ব্যালার্ড। চতুর্থ বিভাগের পুরস্কার জিতেছেন সোয়িনডনের অ্যারন ড্রিনান।

নারী বিভাগে দ্বিতীয়বার বর্ষসেরা বান্নি শ

ম্যানচেস্টার সিটির বান্নি শ দ্বিতীয়বারের মতো নারীদের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন। ২০২৪ সালের পর আবারও এই পুরস্কার জিতলেন তিনি।

দুইবার এই পুরস্কার জেতা খেলোয়াড়দের তালিকায় শ এখন তৃতীয়। এর আগে লুসি ব্রোঞ্জ ২০১৪ ও ২০১৭ সালে এবং ফ্রান কিরবি ২০১৮ ও ২০২১ সালে দুবার করে পুরস্কারটি জিতেছিলেন।

গত মৌসুমে নারী শীর্ষ বিভাগের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন শ। ২২ ম্যাচে ২১ গোল করে ম্যানচেস্টার সিটিকে ১০ বছর পর শীর্ষ বিভাগের শিরোপা জিততে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।

নারীদের সর্বোচ্চ পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য খেলোয়াড়রা ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির ইউই হাসেগাওয়া, চেলসির লরেন জেমস, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জেস পার্ক, আর্সেনালের আলেসিয়া রুশো এবং অ্যাস্টন ভিলার কার্স্টি হ্যানসন।

নারীদের বর্ষসেরা একাদশে বাকি জায়গাগুলো পেয়েছেন হান্না হ্যাম্পটন, কার্স্টিন ক্যাসপারিজ, টোকো কোাগা, এলি কার্পেন্টার ও এমিলি ফক্স।

আর্সেনালের অলিভিয়া স্মিথ নারীদের বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। লিভারপুল থেকে আর্সেনালে যোগ দেওয়ার সময় তিনি নারী ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অর্থের দলবদলের রেকর্ড গড়েছিলেন।

২২ বছর বয়সী কানাডার এই খেলোয়াড় গত গ্রীষ্মে লিভারপুল থেকে ১০ লাখ পাউন্ডে আর্সেনালে যোগ দেন। গত মৌসুমে পাঁচ গোল করার পাশাপাশি তিনটি গোলেও সহায়তা করেন তিনি।

প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা একাদশ

ডেভিড রায়া; জুরিয়েন টিম্বার, উইলিয়াম সালিবা, গ্যাব্রিয়েল; নিকো ও’রেইলি; ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ডেকলান রাইস, রায়ান শেরকি; আর্লিং হলান্ড, অঁতোয়ান সেমেনিও, ইগর থিয়াগো।

নারী শীর্ষ বিভাগের বর্ষসেরা একাদশ

হান্না হ্যাম্পটন; কার্স্টিন ক্যাসপারিজ, টোকো কোাগা, এলি কার্পেন্টার, এমিলি ফক্স; ইউই হাসেগাওয়া, মারিওনা কালদেন্তেই, জেস পার্ক; বান্নি শ, আলেসিয়া রুশো, লরেন জেমস।

আরও খবর

Sponsered content