মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:৩১:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রামের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে টানা পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, সার্কেল এসপি ও থানা পুলিশের যৌথ বাহিনী মাঠে নামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের নোয়াপাড়া বাজারে ইটাখলা ও ভেঙ্গাডোবা গ্রামের মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। মাইকিং করে উভয় পক্ষ থেকেই দা, বল্লম, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত আনুমানিক ১,০০০ থেকে ১,২০০ জন এ সংঘর্ষে অংশ নেয়। এতে পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১৫ থেকে ২৫ জনকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং মাধবপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শাহজিবাজার আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা বিকেলে অভিযান চালিয়ে বাজার এলাকায় স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনেন। তবে উত্তেজনা পুনরায় ছড়িয়ে পড়তে পারে আশঙ্কায় সোমবার ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে সেনাবাহিনী, মাধবপুর সার্কেল পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে উভয় পক্ষের মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন– কাজল মিয়া (২৮), হুমায়ুন (৩০), সুমন মিয়া (২৫), জীন মিয়া (২৪), ইকবাল, বাদল মিয়া (২১), আমিরুল ইসলাম (২৬), সাদ্দাম মিয়া (২৫), সাব্বির হোসেন (২৫), আশিক মিয়া (২৫), হান্নান মিয়া (২৫), সাইফ হোসেন (১৭), তানভীর (১৫), জাবেদ মিয়া, আরমান মিয়া (২২), নুরুল ইসলাম (৪৭), জাহিদ মিয়া (৩৩), ইসমাঈল হোসেন (৩৫), আলমশাহ, নাজমুল (৩২) ও কামরুল (২০)।
আটক ব্যক্তিদের শাহজিবাজার আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডারের নেতৃত্বে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষে থানার ওসি মো. শহীদ উল্ল্যা-সহ ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৭৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও এক হাজার জনকে আসামি করে থানায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদ উল্ল্যা জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। বর্তমানে পুরো এলাকা শান্ত আছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে হলেও পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।




















