আল-আমিন হাসান, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ১ জুন ২০২৬ , ৭:২০:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওরে বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। পুরোপুরি বর্ষার পানি না এলেও হাওরের উন্মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ, দিগন্তজোড়া বিস্তীর্ণ প্রান্তর এবং মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসছেন এখানে।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে সরেজমিনে নিকলী উপজেলার বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো পর্যটকের ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই সময় কাটাচ্ছেন হাওরপাড়ে। কেউ খোলা প্রান্তরে ছবি তুলছেন, আবার কেউ প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাচ্ছেন অবসর সময়।
দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নগর জীবনের ব্যস্ততা ও যান্ত্রিক কোলাহল থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতেই তারা নিকলী হাওরে এসেছেন। পুরোপুরি বর্ষার পানি না থাকলেও এখানকার খোলামেলা পরিবেশ, নির্মল বাতাস এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করেছে।
পর্যটকদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট। বেড়েছে ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচলও। ফলে কিছু কিছু স্থানে ধীরগতির যান চলাচল এবং সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে নিকলী হাওর দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও বিকশিত হতে পারে।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মধ্যে নিকলী বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, দিগন্তছোঁয়া সৌন্দর্য এবং অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকেরা এখানে ভিড় করেন।
২০০০ সালের দিকে নিকলী উপজেলা সদরকে বর্ষাকালের ভাঙনের কবল থেকে রক্ষার জন্য প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি উপজেলার ছাতিরচর এলাকায় ভাঙনরোধে রোপণ করা হয় হাজারো করচগাছ। সময়ের পরিক্রমায় বেড়িবাঁধ ও আশপাশের হাওরাঞ্চল পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
নিকলী উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, “ঈদের ছুটি শুরুর পর থেকেই নিকলী হাওরে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীদের কারণে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে পর্যটনকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে উপজেলার বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে নিকলী হাওর দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হবে।”
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, “ঈদের ছুটিতে নিকলীতে পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেড়িবাঁধ এলাকায় সিভিল ও ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
পর্যটকদের পদচারণা, হাওরের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবের কারণে ঈদের ছুটিতে নিকলী হাওর আবারও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জাতীয় পর্যায়ে পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই হাওরাঞ্চল দেশের পর্যটন খাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।




















