নওগাঁ প্রতিনিধি: ১২ মে ২০২৬ , ৭:৩৮:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চকমানিক বিলে পানি নিষ্কাশনের পথে অবৈধ বানা (বাঁধ) দিয়ে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে। এতে খালের পাঁচটি পয়েন্টে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে বিলের প্রায় ২০০ বিঘা জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা রোববার বিকেলে বিলের পাড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন। তারা অবিলম্বে বানা অপসারণ ও মাছ চাষ বন্ধের দাবি জানান।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তি মামুনুর রশিদ, মতিউর রহমান, আনেছ উদ্দিন, রুস্তম আলী, আইয়ুব আলী, ইউসুফ আলী ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আরও কয়েকজন মিলে চকমানিক বিলে জোরপূর্বক মাছ চাষ করছেন। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালের পাঁচটি স্থানে বাঁশ ও জালের বানা দেওয়ায় পানি সরতে না পেরে ফসল তলিয়ে যায়।
ফলে প্রায় ২০০ বিঘা জমির পাকা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে কৃষকরা বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন লোকসানের পাশাপাশি বাড়তি শ্রমিক খরচও গুনতে হচ্ছে তাদের।
প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন আনোয়ার হোসেন। বক্তব্য দেন শাহাদাত হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, গিয়াস উদ্দিন, ইন্তাজ আলী ও আব্দুর রশিদসহ অনেকে। তারা বলেন, “মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের মাছ চাষের কারণে হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। আমাদের সারা বছরের খোরাকি পানির নিচে চলে গেছে।”
অভিযোগের বিষয়ে মামুনুর রশিদ বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেই মাছ চাষ করা হচ্ছে। ধান তলিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করে তিনি বলেন, যারা মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন তাদের অনেকেরই জমি নেই।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ বানা অপসারণে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















