আইন-আদালত

ধর্ষণ মামলায় কিশোরের ১০ বছরের আটকাদেশ

  প্রতিনিধি ১ জুলাই ২০২৬ , ২:২৬:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় আইনের সংঘাতে জড়িত এক কিশোরকে ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্তই জৈবিক পিতা হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ রায় দেন।

আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে ফটিকছড়ি থানার এক এলাকায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে নিজ ঘরে ছুরির ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী ওই কিশোর। ঘটনার সময় অভিযুক্তের বয়স ১৮ বছরের কম থাকায় তার বিচার শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী হয়। ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী গর্ভবতী হন এবং পরে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটি জন্মের প্রায় দেড় বছর পর মারা যায়। বিচার চলাকালে আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত, ভুক্তভোগী ও মৃত শিশুর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিতে পিতৃত্ব পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় অভিযুক্তই মৃত শিশুটির জৈবিক পিতা বলে প্রমাণিত হয়।

চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, অপরাধটি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য হলেও ঘটনার সময় অভিযুক্ত শিশু ছিল। তাই শিশু আইন, ২০১৩ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার বয়স ১৮ বছর অতিক্রম করায় ৩৪(৫) ধারা অনুযায়ী তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তাকে অন্য বন্দিদের থেকে পৃথক ওয়ার্ডে রাখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০–এর ১৩ ধারার আলোকে আদালত উল্লেখ করেন, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া মৃত শিশুটি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সন্তান হিসেবে পরিচিত হওয়ার অধিকারী। ভরণপোষণের অর্থ নির্ধারণ ও আদায়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content