সারাদেশ

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যাকাণ্ড: ‘শুধু দুজনের পক্ষে সম্ভব নয়’

  মো. সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার: ২৫ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৫৩:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী দাবি করেছেন, শুধু দুজনের পক্ষে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয়। ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ বা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা শক্তি রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন গোপীনাথ চক্রবর্তী। তিনি নিহত গণপতির বড় ভাই এবং মামলার বাদী।

গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, চারজনকে হত্যার মতো ঘটনা মাত্র দুজন মানুষের পক্ষে ঘটিয়ে স্বাভাবিকভাবে ঘটনাস্থলে অবস্থান করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন না। ঘটনার পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা বেরিয়ে আসা উচিত।

তিনি বলেন, একটি হত্যাকাণ্ড ঘটানো সহজ বিষয় নয়। তাই এ ঘটনার পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা শক্তি আড়ালে রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে গোপীনাথ বলেন, ঘটনার আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। তবে তদন্তের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তারা তদন্তে ব্যর্থ হলে পরিবারের সদস্যদের করার তেমন কিছু থাকে না।

কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর সন্দেহ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি কাউকে সন্দেহ করছেন না। কারণ তিনি অন্যত্র থাকেন এবং নিহতদের সঙ্গে কারও বিরোধ বা কোনো ধরনের সংঘাতের কথাও তাঁর জানা নেই। তাঁর ভাষ্য, গণপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে নিহত গণপতির বাড়ির উঠানে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেখানে গীতা পাঠ করা হয়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও এতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্বজনদের অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

এদিকে নিহত গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর স্মরণে রংপুর জিলা স্কুলে প্রার্থনা ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।

স্মরণসভায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর ছেলে প্রিয়মের স্মৃতিচারণ করেন। প্রিয়ম এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্মরণসভা থেকে হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গভীরভাবে মর্মাহত। গণপতি ছিলেন সজ্জন ও বিনয়ী মানুষ। তাঁর ছেলে প্রিয়মও বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গণপতি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্মরণসভায় বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও বক্তব্য দেন।

আরও খবর

Sponsered content