সারাদেশ

রংপুরে শিক্ষকসহ চারজন হত্যা: তদন্তভার ডিবিতে

  মো. সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার: ২৫ আগস্ট ২০২৬ , ২:২৫:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

 

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

তিনি জানান, মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি সোমবার বিকেলে ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র নতুন তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলীর কাছে হস্তান্তর করেন। পরে দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থল মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যান। সেখানে আগের তদন্ত কর্মকর্তা মামলার ঘটনাস্থল ও তদন্তের বিভিন্ন বিষয় নতুন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা ঘটনার বিবরণের সঙ্গে আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিরও মিল রয়েছে বলে জানান তিনি।

 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ির ছাদে মাদক সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে ওই বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া দু-একজনের মাথায় সামান্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

 

ঘটনার পর রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা দুজনই মাছুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরেন।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসর নেন। এর আগে নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পরে মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে পরিবার নিয়ে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করছিলেন তিনি। অবসরের পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন।

রোববার বিকেলে চারজনের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

মামলাটি ডিবির হাতে যাওয়ার পর তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বেরিয়ে আসে কি না এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন হয় কি না—এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

আরও খবর

Sponsered content