প্রতিনিধি ২৫ আগস্ট ২০২৬ , ১:৪৪:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ
চার বছর পর গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত। রেকর্ড উৎপাদন, পর্যাপ্ত মজুত এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে শস্যটির মূল্য হ্রাসের প্রেক্ষাপটে সোমবার (২৪ আগস্ট) ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) গমের রফতানি নীতি ‘নিষিদ্ধ’ থেকে সংশোধন করে ‘মুক্ত’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
ভারতের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ফলে সব ধরনের গম ছাড়াও আটা, ময়দা, সুজি ও গোটা গমের আটার মতো গমজাত পণ্য অবাধে রফতানির সুযোগ উন্মুক্ত হলো। ২০২২ সালের মে মাসে অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বাজারে গম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী দেশটি। নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চলতি বছরের শুরুতে নির্ধারিত লাইসেন্স ও কোটা ভিত্তিক রফতানি ব্যবস্থাও বাতিল করা হলো।
ভারতের খাদ্য সচিব সঞ্জীব চোপড়া জানান, মূলত দেশীয় কৃষকদের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল; রফতানির অনুমতি দেওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম যৌক্তিক পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং আসন্ন রবি মৌসুমে কৃষকরা ভালো আবাদে উৎসাহিত হবেন। বর্তমানে ভারতের ফুড করপোরেশনের (এফসিআই) কাছে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ টন গমের মজুত রয়েছে এবং ২০২৫–২৬ মৌসুমে দেশটিতে রেকর্ড ১২ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার টন গম উৎপাদিত হয়েছে। আগের বছর উৎপাদন হয়েছিল ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৪০ হাজার টন।
আন্তর্জাতিক বাজারে যখন রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কারণে গম সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং মিসর ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প খুঁজছে, তখন ভারতের বাজার খুলে দেওয়া বিশ্বজুড়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশ মূলত ভারত থেকেই সবচেয়ে দ্রুত ও কম খরচে গম আমদানি করে থাকে। চার বছর পর ভারত গম রফতানি উন্মুক্ত করায় অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারত থেকে কম পরিবহন খরচে গম আনা সম্ভব হবে।
ভারত থেকে সহজ সরবরাহের ফলে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে আটা, ময়দা ও গমজাত খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং ভোক্তারা সরাসরি সুফল পাবেন। ভারতের ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে গম আমদানি করতে সময় অনেক কম লাগে। ফলে দেশের সরকারি বা বেসরকারি খাতে কোনও কারণে গমের ঘাটতি দেখা দিলে ভারত থেকে দ্রুততম সময়ে তা সরবরাহ করা সম্ভব হবে।





















