সারাদেশ

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যাকাণ্ড: আসামির শার্ট নিয়ে পুলিশের কর্মকর্তাকে ঘিরে নতুন আলোচনা

  মো: সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার ২৪ আগস্ট ২০২৬ , ৬:৪১:২৩ প্রিন্ট সংস্করণ

 

রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায় জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার এক আসামির পোশাক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন ঘটনাস্থলে থাকা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পরনের শার্টের সঙ্গে আসামি সিদ্ধার্থের শার্টের রং ও নকশার মিল থাকার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক গণমাধ্যমকর্মী জানান, মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তীর পরনে থাকা শার্টটির সঙ্গে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থের শার্টের দৃশ্যমান মিল রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আসামির শার্টের রঙের সঙ্গে মিলছে বলে কি আমি এই শার্ট পরব না? আমি চিন্তা করছি, এই শার্ট আগামী সাত দিন পরে থাকব।’

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের দুজনের বাড়িই ঘটনাস্থলের কাছাকাছি মাছুয়াপাড়া এলাকায়।

পুলিশের দাবি, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর ওই ভবনে বসেই গ্রেপ্তার দুজন ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

তবে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ঘটনাস্থলে কারা ছিলেন এবং পুরো ঘটনাটি কীভাবে সংঘটিত হয়েছে-এসব বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত একটি লাইভ ভিডিও নিয়েও আলোচনা চলছে। ভিডিওতে একজনকে মাস্ক পরা অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে ওই ব্যক্তিকে পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী বলে দাবি করা হলেও, এ পরিচয়ের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, ‘তারা নিজেদের দায় স্বীকার করায় আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।’

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।

তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনায় কারা জড়িত এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

আরও খবর

Sponsered content