প্রতিনিধি ২৪ আগস্ট ২০২৬ , ১২:০৩:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২) হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
গতকাল রোববার রাতে রংপুর মেডিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে নগরীর দখিগঞ্জ মহাশ্মশানে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি চারটি চিতায় দাহ করা হয় তাদের।
জানা গেছে, গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চারটি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত ৯টার দিকে মরদেহগুলো দখিগঞ্জ মহাশ্মশানে নেওয়া হয়। সেখানে চারজনকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। এরপর পরপর চারটি চিতায় তাদের মরদেহ তোলা হয়। মুখাগ্নি করেন স্বজনরাই। রাত ১১টার দিকে শেষ হয় দাহকার্য।
চারজনকে চিতায় তোলার সময় স্বজনদের কান্নায় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের বাইরের লোকজনও এ সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। চিতায় আগুন দেওয়ার সময় স্বজনরা নিহতদের নাম ধরে বিলাপ করছিলেন। কিছুক্ষণ পর শ্মশানে নেমে আসে নীরবতা। চারদিকে শুধু জ্বলতে থাকা চিতার আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়।
দাহকার্যের সঙ্গে যুক্ত একজন বলেন, তার জীবনে এ ধরনের দৃশ্য কখনো দেখেননি। একই পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে দাহ করা খুবই কষ্টের। দাহকাজ শেষে চিতায় পানি দিয়ে চারজনের অস্থি নিয়ে যান স্বজনরা। পরে আগুন পুরোপুরি নেভাতে শ্মশানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পাইপ দিয়ে ফের পানি দিতে দেখা যায়।
নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, ভালো মানুষটার ছেলে-মেয়ে নিয়ে কতইনা স্বপ্ন ছিল। নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেল। খুনিরা পরিবারটির কাউকেই বাঁচতে দিল না। পাশাপাশি চারটি চিতা দাউ দাউ করে জ্বললেও আমার চোখে ঘোর অমানিশা কাটছে না।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শনিবার রাতে বাড়িতে গিয়ে চারটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গতকাল রোববার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। রোববার ভোরে তাদের আটক করা হয়। পরে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের হলে ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশ কমিশনারের দাবি, ‘মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে ইয়াবা সেবন করেন। সেখানে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে।’ জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে অভিযুক্ত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।





















