আইন-আদালত

‎স্বীকারোক্তি দিতে এসে অস্বীকৃতি, ফের কারাগারে মোসাব্বির হত্যা মামলার আসামি বিল্লাল

  প্রতিনিধি ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:২০:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ

‎ঢাকার তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যা মামলার আসামি মো. বিল্লাল স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

‎গত ১০ জানুয়ারি ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই শ্যুটারের একজন জিন্নাত, মূল সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল, ঘটনার পর আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির ও ঘটনার আগেরদিন ঘটনাস্থল রেকিকারী মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নম্বর প্লেট বিহীন একটি মোটরসাইকেল ও নগদ ৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

‎গত ১২ জানুয়ারি শ্যুটার জিন্নাত আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। ওইদিন দুই ভাই বিল্লাল ও আব্দুল কাদিরের সঙ্গে আসামি রিয়াজের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

‎সাত দিনের রিমান্ড শেষে গত ১৯ জানুয়ারি তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন আব্দুল কাদির ও রিয়াজকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর বিল্লালের ফের ৩ দিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

আজ তিন দিনের রিমান্ড শেষে বিল্লালকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।

‎আবেদনে বলা হয়, মোসাব্বিরকে হত্যার অপারেশনে মূল শুটারদের ঘটনাস্থলে আনা নেওয়াসহ পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেছে বিল্লাল। হত্যাকাণ্ডে আর্থিক যোগানদাতা ও নির্দেশদাতার সঙ্গে তিনি নিজে যোগাযোগ করে আর্থিক লেনদেন করেছে মর্মে স্বীকার করেন।মামলার ঘটনার সঙ্গে তিনিসহ কারা জড়িত সে বিষয়ে অবগত। জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে জড়িত করে স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতি প্রদান করেছেন। এ ঘটনার জন্য তিনি অনুতপ্ত। অনুশোচনায় স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে ঘটনার স্বপক্ষে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে ইচ্ছুক।

‎তবে বিচারকের খাসকামরায় যাওয়ার পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান বিল্লাল। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর হয়।

‎এর আগে গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী পাড়ার হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মোসাব্বিরকে (৪৪) হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। এতে মোসাব্বিরসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পরপরই আহতদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মোসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন এবং সুফিয়ান বেপারী মাসুদকে (৪০) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

‎এ ঘটনায় ৮ জানুয়ারি নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগগম বাদী হয়ে ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরও খবর

Sponsered content