প্রতিনিধি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১২:৩৬:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া নিজ বাড়ি থেকে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। শনিবার নুয়াকোট জেলায় চন্দ্রিকা শ্রেষ্ঠ নামে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা কাদায় মাখা অবস্থায় তাকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বের করে আনেন। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়।
পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট ইকবাল হাওয়ারি বলেন, একটি এলাকা পরিষ্কারের সময় পুলিশ সদস্যরা ওই নারীকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পান। পরে তাকে দ্রুত কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়।
নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কাদায় প্রায় পুরোপুরি ডুবে থাকা বাড়িটির সামান্য অংশ দৃশ্যমান রয়েছে। বাড়িটির নিচের তলাগুলো ঘন কাদা ও ধ্বংসাবশেষে সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায়।
এর আগে শনিবারই নেপালের রাসুয়া জেলায় আপার ত্রিশূলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। ভয়াবহ বন্যার পর টানেলের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন তিনি।
গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ও পাথরের বিশাল ধসের পর চীন-নেপাল সীমান্ত এলাকায় আকস্মিকভাবে পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। অনেকটা সুনামির মতো ওই প্রবল স্রোত বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
এর পর থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নেপালে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটিতে এ ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল ও চীনে মৃতের সংখ্যা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৩৭৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশে ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ১০ দিন পর চন্দ্রিকা শ্রেষ্ঠ ও চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।





















