আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে নিহত ৬০

  প্রতিনিধি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১:৪৫:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ

ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীর সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের তীব্র সংঘর্ষ চলছে। দেশটির একাধিক ফ্রন্টে লড়াই ছড়িয়ে পড়লেও তাইজ ও হোদেইদা প্রদেশ এবং লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় সংঘর্ষ সবচেয়ে বেশি তীব্র হয়েছে।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী হোদেইদা প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলের হাইস জেলা পুনর্দখলের দাবি করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকাটি হোদেইদা, তাইজ ও ইব প্রদেশের সংযোগস্থলে অবস্থিত।

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি বলেছেন, দেশের পুরো ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার সক্ষমতা ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে। তিনি হুথিদের সতর্ক করে বলেন, তাদের কর্মকাণ্ডের ‘পরিণতি বহন করতে হবে’।

তাইজকে হুথিদের সমর্থকদের জন্য কোনো ‘করিডোর’ হতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন আল-আলিমি। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি হুথিদের প্রধান আঞ্চলিক সমর্থক ইরানের দিকে ইঙ্গিত করেন। তার দাবি, হুথিদের ‘ভুল হিসাব’ শেষ পর্যন্ত তাদের ‘সম্পূর্ণ পতন’ ডেকে আনবে।

গত সপ্তাহে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এই সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযানও চলছে।

ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফায়াদ আল-নুমান জানিয়েছেন, আল-জারাহি জেলার আশপাশের লড়াইয়ে সরকারি বাহিনী হুথিদের কয়েক ডজন যোদ্ধাকে আটক করেছে। পরে ওই এলাকায় সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযানও চালায়।

শনিবার তাইজ ও লাহজ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখে ইয়েমেনি বাহিনী। দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আল-জারাহির দক্ষিণে হুথিদের পাঠানো রসদ ও অতিরিক্ত যোদ্ধাদের ওপর ড্রোন হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করা হয়েছে। একই সময়ে স্থল অভিযানও পরিচালনা করা হয়।

রোববার তাইজে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরার এক প্রতিবেদক। এ সময় ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন অস্ত্রব্যবস্থা মোতায়েন করেছে বলেও জানানো হয়।

ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নোজাইলি বলেন, হুথিদের ‘লঙ্ঘন ও উত্তেজনা বৃদ্ধির’ জবাবে তাইজ প্রদেশে তাদের একটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিকদের ওপরও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার তাইজে সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিকসহ ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, তাইজ ও এডেনের মধ্যকার সড়কে একটি বেসামরিক জমায়েত লক্ষ্য করে হুথিদের গোলাবর্ষণে চারজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, তাইজে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার পর গত দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এদিকে, বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে হুথিদের যেকোনো অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে সতর্ক করেছে ইয়েমেন সরকার। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

 

আরও খবর

Sponsered content