প্রতিনিধি ২৪ আগস্ট ২০২৬ , ৮:০২:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাস্তবায়নাধীন দেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব গ্রিন স্টিল প্রকল্প ‘বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (বিএমএসআইএল)’ চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের (এসবিজি) অধীনে ৫,৬৪১ কোটি টাকার এই প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ শেষ হলেও ব্যাংক ঋণ না পাওয়া, ডলারের দর বৃদ্ধি এবং চট্টগ্রাম বন্দরে যন্ত্রপাতি আটকে থাকায় এর কাজ থমকে গেছে। ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত হাজার কোটি টাকারও বেশিতে।
ইতালিয়ান প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় মানের রড ও অন্যান্য স্টিল পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি তৈরি করা হচ্ছিল, যা থেকে অন্তত ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালে অগ্রণী ব্যাংকের নেতৃত্বে ৮টি ব্যাংকের অনুমোদিত ২,৩০৫ কোটি টাকার সিন্ডিকেটেড ঋণের মধ্যে মাত্র ৫৪০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনার অজুহাতে নেতৃত্বদানকারী ব্যাংক ঋণ বিতরণ বন্ধ রাখায় এটি মন্দ ঋণে পরিণত হতে চলেছে। অগ্রণী ব্যাংক সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পৃথক গ্রুপ হিসেবে ভাগ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রতিবেদন দিলেও ঋণ ছাড় শুরু হয়নি। পাশাপাশি জনতা, রূপালী, সোনালী ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এখনো বাস্তবায়নের সময়সীমা না বাড়ানোয় ইউরোপীয় সরবরাহকারীরা অবশিষ্ট যন্ত্রপাতি জাহাজীকরণ করতে পারছে না।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৫০ কনটেইনারের প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকার মূলধনী যন্ত্রপাতি আটকে থাকায় ডেমারেজ ও মাশুল চার্জ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫০ কোটি টাকায়। সেই সঙ্গে ডলারের দর বৃদ্ধি ও সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত আরও প্রায় ৯৮৭ কোটি টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। এছাড়া বেজা থেকে বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার কথা থাকলেও উদ্যোক্তাদের নিজ খরচে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি লাইন তৈরি করতে গিয়ে বাড়তি চারশত কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে।
এসবিজির চিফ অপারেটিং অফিসার সাহেদ জাহিদ জানান, শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগের পর তারা এখন গভীর অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। দ্রত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ঋণ ছাড় ও জটিলতা নিরসন করা না গেলে দেশের সর্ববৃহৎ এই পরিবেশবান্ধব স্টিল কারখানার স্বপ্ন ভণ্ডুল হওয়ার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যাংক খাত বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।





















