জাহিদ হাসান চৌধুরী, ফেনী জেলা প্রতিনিধি ২৫ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৪৬:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতীয় পানি আগ্রাসন বিষয়ে বাংলাদেশ আরও বেশি সজাগ থাকবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও ইতিবাচক হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে ভারতকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ফেনীর পরশুরামে মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতকেও চিন্তা করতে হবে—পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ তাদের বন্ধু দেশ। বন্ধুত্বের সম্পর্ক কতটুকু ইতিবাচক হওয়া দরকার, তা তাদের দেখা উচিত। আমরা আশা করছি, ভারত এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সজাগ থাকবে এবং বন্ধুপ্রতিম দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবে।’
তিনি বলেন, দেশের মানুষ যাতে কোনো ধরনের আগ্রাসনের শিকার না হন, সে জন্য সরকার আরও সতর্ক থাকবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশবাসীও এ বিষয়ে সচেতন রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের একটি প্রবণতা ছিল। এখন জনগণ সরকারকে নির্বাচিত করেছে এবং সরকার দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। এ মুহূর্তে ‘জিরো টলারেন্সে’ চলে যাওয়ার কথা না বললেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই চ্যালেঞ্জ আমরা হাতে নিয়েছি। বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে এ প্রকল্পসহ দেশের সব প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করা আমার নিজেরও দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব খুব সতর্কতার সঙ্গে পালন করছি।’
কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাব, দুর্নীতি কিংবা প্রকল্পের ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক থাকবে বলে জানান তিনি।
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়েই কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধ ভাঙন ও বন্যার কারণে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমবে। বৃহত্তর এই অঞ্চলের মানুষ প্রকল্পটির সুফল পাবেন।
মন্ত্রী জানান, আগামী মাসের যেকোনো সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এসে প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, আবু তালেব, গ্রামবিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এখনো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।





















