সারাদেশ

মদনে শিশুধর্ষণ মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকই নবজাতকের পিতা

  প্রতিনিধি ২৪ আগস্ট ২০২৬ , ১০:০২:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ

নেত্রকোতনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষায় মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএর সঙ্গে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই ওই নবজাতকের জৈবিক পিতা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল।

তিনি বলেন, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের আগে মতামতের জন্য পাঠানো ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে নবজাতকের সঙ্গে আসামির ডিএনএর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনের সঙ্গে তিনি একমত পোষণ করেছেন। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হতে পারে।

পিপি আরও বলেন, সোমবারই বিষয়টি আদালতে উপস্থাপনের কথা ছিল। তবে কিছু দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় অভিযোগপত্রের সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি জানান, সোমবার মামলাটির শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন আসামি জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিলেটের একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে (সেফহোম) থাকা নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর আগে গত ২ জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। এরও আগে গত ১৭ মে মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুটির মা মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মাদ্রাসাশিক্ষক সাগর ওই শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

গত ৭ মে আদালত আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ১০ মে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

এদিকে ভুক্তভোগী শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তার মা আদালতে সুরক্ষার আবেদন করেন। পরে গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সিলেটের একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়ার পর মামলাটির তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও খবর

Sponsered content