সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা ১৯ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৪৫:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গৃহবধূ মুন্নী আক্তার (২২) হত্যার বিচার ও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর গ্রামে মোহনগঞ্জ-সমাজ সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
নিহত মুন্নী আক্তার সোনারামপুর গ্রামের ইদ্রিছ মিয়ার মেয়ে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কয়ড়াপাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মুন্নীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর তাঁর স্বামী সোহাগ মিয়াসহ পরিবারের সদস্যরা গরু-বাছুর ও ঘরের মূল্যবান মালামাল নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইদ্রিছ মিয়া বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় তিন বছর আগে কয়ড়াপাড়া গ্রামের সোহাগ মিয়ার সঙ্গে মুন্নী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নির্যাতন করতেন। গত ১০ আগস্ট রাতে মুন্নীকে হত্যা করে মরদেহ বিছানায় রেখে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন পালিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, মামলা হওয়ার পরও আসামিরা এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। তাঁরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের বাবা ইদ্রিছ মিয়া বলেন, ‘যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন। মামলা করার পরও আসামিরা এলাকায় ঘুরছে। হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে আসামিরা উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে থানায় লুটপাটের অভিযোগ করেছে।’
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহতের মা নুরজাহান আক্তার, গ্রামের বাসিন্দা মনি আক্তার ও শিউলি আক্তার, ইউপি সদস্য শাহ আলম, মো. কাউসার মিয়া, নিহতের ভাই মো. আনিছ মিয়া, ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জুলহাস উদ্দিন, পৌর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মহসিন তালুকদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম জয়, জুলফিকার আহমেদ, এলাজ মিয়া, আদর আলী, মুখলেছ মিয়া, রুমান কবির ও নিহতের চাচাতো ভাই মিঠু মিয়াসহ অনেকে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গৃহবধূ মুন্নী আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে মামলার আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।





















