নওগাঁ প্রতিনিধি: ২০ আগস্ট ২০২৬ , ১২:০৬:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৮৫ নম্বর কশব মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার একশ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেন থমকে আছে। জরাজীর্ণ ভবনের দেয়াল ও ছাদে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে গভীর চিড়। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই প্রতিদিন পাঠদান চলছে। ফলে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা নিয়েই শ্রেণিকক্ষে বসতে হচ্ছে আড়াই শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশের দেয়াল ও টিনের ছাউনির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল আরও বিস্তৃত হয়েছে। দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। শ্রেণিকক্ষের এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠদান করতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের মধ্যেই বিরাজ করছে অজানা আতঙ্ক।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। শত বছরের পথচলায় নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিদ্যালয়টি শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সাম্প্রতিক সময়েও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে চারজন ট্যালেন্টপুলে এবং একজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে আটজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহায়ক কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু অবকাঠামোগত সংকটের কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পর থেকেই আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করতে হচ্ছে। কখন ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়ে, সেই শঙ্কা সবসময় কাজ করে। দ্রুত ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, “৮৫ নম্বর কশব মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কেউ এ বিষয়ে যোগাযোগ করেননি। তবে মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে এডিপির অর্থায়নে ক্লাসরুম সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিও) মাধ্যমে আবেদন করলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভবনের ঝুঁকি নিরূপণ করুক। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণ অথবা বিদ্যমান ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের মতে, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ের ভবন নয়, শিক্ষার্থীদের জীবনই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।





















