মো. গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:৩৬:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী এলাকায় ধান, গম ও শাকসবজির পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে তুলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে। স্বল্প জমিতে তুলনামূলক কম খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনা থাকায় দিন দিন তুলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন তারা।
এক সময় আড়ানী এলাকায় সীমিত পরিসরে তুলা চাষ হলেও অন্যান্য ফসলের আধিক্যের কারণে তা তেমন গুরুত্ব পায়নি। তবে বর্তমানে তুলার বাজারমূল্য ও ফলন সন্তোষজনক হওয়ায় পুরোনো চাষিরা আবার এ চাষে ফিরছেন এবং নতুন কৃষকরাও যুক্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় এক তুলা চাষি জানান, “আমি দীর্ঘদিন ধরে তুলা চাষ করছি। এতে খরচ কম, পরিচর্যাও তুলনামূলক সহজ। বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায় বলে এখন অনেক কৃষক আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”
রাজশাহী জোনের আড়ানী কটন ইউনিটের কর্মকর্তা মো. হোসেন আলী বলেন, “এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া তুলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের তুলা চাষে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। এ চাষ সফল হলে আড়ানী এলাকায় বিকল্প ফসল হিসেবে তুলা চাষ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকাভুক্ত কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহযোগিতাও দেওয়া হচ্ছে।”
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তুলা চাষ সম্প্রসারিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ ও নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
তুলা চাষ সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর তথ্য অনুযায়ী, বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় বর্তমানে মোট ৩০০ জন তুলা চাষি রয়েছেন। এর মধ্যে বাঘা উপজেলায় ২০০ জন এবং চারঘাটে ১০০ জন। চলতি মৌসুমে দুই উপজেলায় মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার মণ। এ বছর বাঘা ও চারঘাট মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৬শ বিঘা জমিতে তুলা চাষ হয়েছে, যার মধ্যে বাঘা উপজেলায় প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে আবাদ করা হয়েছে।




















