জাতীয়

নিজেকে গড়ো শক্তভাবে, তাহলে গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ

  প্রতিনিধি ২৭ জুলাই ২০২৬ , ৮:০৫:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন ‘আগামী দিনে তোমরা যদি নিজেদেরকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারো, তাহলেই বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে গড়ে তুলতে পারবে।আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ গ্যালারিতে হাজার হাজার ছোট বন্ধুরা বসে আছো তোমাদের মধ্যে থেকেই এই দেশের একজন ভালো ডাক্তার, আর্কিটেক্ট ও ইঞ্জিনিয়ার বের হবে। তোমাদের ভেতর থেকে এই দেশে একজন ভালো ক্রিকেটার বের হবে, ভালো সুইমার বের হবে, ভালো টেনিস প্লেয়ার বের হবে।’

সোমবার বিকেলে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপনি অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬ সমাপনি অনুষ্ঠান হয়।

প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে মাঠের পাশে বসে বালিকাদের ফুটবল ফাইনাল খেলা দেখেন। এই সময়ে ক্রীড়া প্রতি মন্ত্রী আমিনুল হক ছাড়াও অর্থমন্ত্রী মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ, মীর হেলাল, সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলম বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া ভাই-বোনদের কাছে আমার একটি অনুরোধ, আপনাদের মাধ্যম কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ এডিটর সাহেবরা আছেন তাদের কাছে আমার অনুরোধ, নতুন কুড়িঁর স্পোর্টস হয়ে গেল, আজকে ফাইনাল খেলা হলো। আমরা সবসময় দেখি যে পত্রিকায় বা নিউজে বিভিন্ন বিষয় হাইলাইট করা হয় বা লিড নিউজ করা হয়ে থাকে। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ আজকে যে ইভেন্টটা আপনারা দেখে গেলেন এই ইভেন্টটা হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, বাংলাদেশের ফিউচার। যারা প্যান্ডেলের নিচে বসে আছে, যারা গ্যালারিতে বসে আছে তারা হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে যত নিউজই থাক আগামীকাল আপনাদের সম্প্রচারিত প্রতিষ্ঠানে, আপনাদের পত্রিকায় যদি আজকের এই বাচ্চাদের খেলা, আজকের এই ভবিষ্যৎ তাদের নিউজটা যেন আগামীকাল লিড করা হয। এটি আমার অনুরোধ। আশা করি আপনারা কালকের বা রাত্রের ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে আমাদের এই ভবিষ্যৎকে আপনারা তুলে ধরবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক সমস্যায় আছে, সেটি অস্বীকার করছি না। কিন্তু এই সমস্যার পাশাপাশি আমরা দেখতে পাচ্ছি যে বাংলাদেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যেতে পারব? আমরা জানি তোমাদের যে স্কুল, কলেজগুলো আছে, অনেক স্কুল হয়ত তোমাদের খেলার ব্যবস্থা নেই। অনেক স্কুলে হয়ত ফ্যান ঠিক নেই। আমরা কাজ করছি। তোমাদের স্কুলগুলো যাতে ধীরে ধীরে আমরা গড়ে তুলতে পারি। কিন্তু আজকে এই নতুন করে স্পোর্টস ইভেন্টে তোমাদের কাছ থেকে আমি একটি কথা নিতে চাই। আমরা এই যে দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট ছোট বন্ধুরা আছো তোমাদের সকলের কাছে আমি একটি সহযোগিতা চাই। একটি সাহায্য চাই। সেটি কি সাহায্য? এই দেশটা আমাদের সকলের, এই দেশের আলো, বাতাস, পরিবেশ আমরা সকলে মিলে যদি ঠিক রাখি তাহলে আমরা একটি সুন্দর পরিবেশে থাকতে পারবো। আমি তোমাদের সকলের কাছে যে সাহায্যটি চাই, তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় আশেপাশে অনেকে বিভিন্ন রকম ময়লা ফেলে, বিভিন্ন রকম স্টিকের বোতল ফেলে, সেটি পুকুর হোক নদীনালা হোক বাসার আশেপামে এরকম কোন দৃশ্য তোমাদের চোখে পড়ে প্লিজ তোমরা তাকে বারণ করবে। দরকার হলে সেই ময়লা তোমরা তুলে নিয়ে যেইখানে ময়লা ফেলার জায়গা নির্দিষ্ট সেই জায়গায় ময়লা ফেলতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী পশু-পক্ষীর প্রতি সদয় হওয়ার অনুরোধ রেখে বলেন, ‘আরেকটি কাজ তোমাদেরকে করতে হবে আমাদের মধ্যে কিছু কিছু মানুষ আছে যারা প্রকৃতির প্রতি বিভিন্ন পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত নির্দয় হয়। ছোট বন্ধুদেরকে আমি অনুরোধ করব, আমাদের আশেপাশে যত কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি,গরু, ছাগল যত রকম পশুপাখি আছে আমরা চেষ্টা করব যত্ন নেবার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আছি তোমাদের সাথে। তোমরা পড়ালেখা করতে চাইলে সরকার তোমাদের পাশে আছে। তোমরা যে গান গাইতে চাইবে, যে ছবি আঁকতে চাইবে, যে খেলাধুলা করতে চাইবে আমরা সব রকম তোমাদেরকে সহযোগিতা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার। কিন্তু তোমাদেরকে সঠিকভাবে তোমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে।’

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারীসহ বিজয়ীদের অভিন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারী ক্ষুদে খেলোয়াড়দের অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতার এই পর্যন্ত আসার জন্য তাদের পরিবারের বাবা-মাদেরকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। তাদের স্কুলের শিক্ষক যারা সহযোগিতা করেছেন, বিভিন্ন কোচ যারা সহযোগিতা করেছেন, প্রত্যেকটি মানুষকে আমি অন্তরের অন্তস্থল থেকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।’

বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন এবং প্রতিযোগিদের হাতে ক্রেস্ট –মেডেল ও চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। বালকদের ফুটবলে লড়াইয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলকে ১-০ গোলে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছে সিলেট অঞ্চল। বালিকাদের ফাইনালে উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় ক্ষুদে কিশোরী ফুটবলাররা রাজশাহীকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা লাভ করেছে।

আরও খবর

Sponsered content