সারাদেশ

বিজয়নগরে মাদরাসায় হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৫

  বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১১:২৯:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নুরে মদিনা ইসলামিয়া মাদরাসায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। মাদরাসার পাশে পরিত্যক্ত বাথরুম ও আশপাশের এলাকায় মাদকদ্রব্য রাখায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে বিজয়নগর থানায় মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর পূর্বপাড়ায় ২০১৮ সালে নুরে মদিনা ইসলামিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে দ্বীনি শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। মাদরাসার পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত বাথরুম ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায়ই মাদকদ্রব্য রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদরাসায় প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় মাদরাসার শিক্ষক ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বাধা দিলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে ইদ্রিস খাঁ, অহিদ খাঁ, মোতালিব খাঁ, মো. ওয়াসিম মিয়া ও ছোটন খাঁ আহত হন। পরে তাঁদের বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় কাশিনগর এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস খাঁ বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে বিজয়নগর থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন—লাল মিয়া (৩৭), ওয়াসিম মিয়া (৪০), মমিন মিয়া (২৮), নীল মিয়া (৩৫), মামুন মিয়া (৪০), সাকিব মিয়া (১৮), মহসিন মিয়া (৩৭), বশির মিয়া (৩২), রমজান মিয়া (৬০), রাজন মিয়া (২৮), সজল মিয়া (২২), জীবন মিয়া (২৫), খায়ের মিয়া (৪৮), হারুন মিয়া (৫৫), ইয়াসিন মিয়া (৫০), বাদন মিয়া (১৮), শাহ আলম মিয়া (২২) ও কালু মিয়া (২২)।

এদিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাদরাসা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাদরাসার পরিচালক মাওলানা হাফেজ মো. ইমরান হোসাইন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বিজয়নগর শাখার সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম, সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন ইমাম পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সামসুল ইসলাম হুমায়ূন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মানছুর হক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়জুল্লাহ, নলগড়িয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা বেলাল হোসেন, মাওলানা শহিদুল্লাহ, মাদরাসার সভাপতি হাফিজুর রহমান, সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ইসমাইল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আশিক খানসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

তবে মাদরাসায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার ২ নম্বর আসামি ওয়াসিম মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা মাদরাসা ভাঙচুর করিনি। তারা নিজেরাই ভাঙচুর করে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।’

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও খবর

Sponsered content