সারাদেশ

সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারচেষ্টা; টেকনাফে উদ্ধার ৫

  প্রতিনিধি ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২:০০:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রাক্কালে মানবপাচারের শিকার পাঁচ ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১৫। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তবে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টা দিকে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কচ্ছপিয়া এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করে র‌্যাব-১৫-এর সিপিসি-১ (টেকনাফ) এর একটি আভিযানিক দল।

র‌্যাব-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (ল’অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ) সূত্রে জানা যায়, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের মধ্যম কচ্ছপিয়া এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র সমুদ্রপথে কয়েকজনকে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য জড়ো করেছে এমন গোপন সংবাদ পায় র‌্যাব। এর ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল সোমবার দিবাগত রাতে মধ্যম কচ্ছপিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকারী দল নুরুল কবিরের বসতবাড়ির সামনের সড়কের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে সেখানে অবস্থানরত মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দিক-বিদিক ছুটে পালিয়ে যায়। পরে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো করা পাঁচজন ভিকটিমকে উদ্ধার করেন। একই সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

র‌্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা আর্থিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে ওই পাঁচজনকে সমুদ্রপথে নৌকাযোগে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য মধ্যম কচ্ছপিয়া এলাকায় একত্রিত করেছিল।

র‌্যাব জানায়, পাচারকারী চক্রটি ভিকটিমদের জোরপূর্বক শ্রম ও সেবা আদায়ের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের সমুদ্রপথে একটি নৌযানের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযানের সময় পাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ভিকটিম ও জব্দ করা মোবাইল ফোন পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব।

র‌্যাবের উদ্ধার করা ভিকটিমদের মধ্যে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা মিনি বাজার এলাকার বাসিন্দা সিফাত, সাইফুল ইসলাম, সাঈদ ও শামীম এবং টেকনাফ সদর উপজেলার গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ রয়েছেন।

এদিকে, টেকনাফ উপকূলকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বিদেশে মানবপাচার ঠেকাতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। র‌্যাব-১৫ জানিয়েছে, মানবপাচারসহ সব ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও খবর

Sponsered content