আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনে হুথিদের স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে ১৩টি বিমান অভিযান সেনাবাহিনীর

  প্রতিনিধি ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১২:৫৫:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ

ইয়েমেনের চার জেলায় ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহী বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে মোট ১৩টি বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। আজ সোমবার ভোরের দিকে পরিচালনা করা হয়েছে এ অভিযান।

ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-বায়দার আল-শারিয়াহ, ধি নাইম, আল-বায়দা এবং আল সাওয়াদিয়াহ এই চার জেলা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-ধালে’তে পরিচালনা করা হয়েছে এসব বিমান অভিযান। অভিযানে এই চার জেলায় হুথিদের ক্ষেপণাণাস্ত্র উৎক্ষেপণ লাঞ্চার, কমান্ড সেন্টার, সামরিক যানবাহন এবং সমাবেশস্থলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আর আল-ধালে প্রদেশে হুথি বাহিনীর একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার এবং নাসা পর্বতে হুথিদের একটি থার্মাল নজরদারি সিস্টেম ধ্বংস করেছে ইয়েমেনি বিমানবাহিনী।

আগের দিন রোববার হুথি বিদ্রোহীদের থেকে ইয়েমেনের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় শহর তাইজ এবং লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী শহর আল হুদায়দার দখল নিয়েছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। সেই সংঘাতে ২০ জনেরও বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে  ২০১৫ সালে হুথি গোষ্ঠী রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি সেনাবাহিনী। সে অভিযান এখনও চলছে।

বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। ইয়েমেনের সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের অনুগত। কয়েক বছর আগে সেই প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বর্তমানে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার আগের মতো হুথিদের সহায়তা-সমর্থন দিতে পারছে না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হুথিদের দখকৃত এলাকাগুলো ফের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে গত জুলাই থেকে নতুন উদ্যমে অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।

আরও খবর

Sponsered content