প্রতিনিধি ৭ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫৫:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রায় দুই দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে নিজেদের প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছে হামাস। সোমবার সংগঠনটি জানায়, গাজার বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব এখন থেকে পালন করবে নবগঠিত ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি)।
গত বছরের অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের আওতায় এনসিএজি গঠন করা হয়। সে সময় জানানো হয়েছিল, গাজা উপত্যকার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা এবং সরকারি সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করবে এই কমিটি। এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফিলিস্তিনি সরকারি কর্মকর্তা আলী শাতকে।
বিশ্লেষকদের মতে, হামাসের এই সিদ্ধান্ত গাজার রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০০৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর ২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতাহর কাছ থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয় হামাস। এরপর থেকে সংগঠনটি উপত্যকার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির পর থেকেই তারা শাসনভার ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল।
হামাসের সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা জানান, সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এনসিএজির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করতে বর্তমান প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর সব ধরনের অজুহাত এড়ানোর জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি জানান, নতুন ব্যবস্থার অধীনে গাজার প্রশাসনিক শাসনভার আর হামাসের হাতে থাকবে না।
এদিকে হামাসের ঘোষণার পরপরই ‘বোর্ড অব পিস’ জানায়, এনসিএজি গাজা উপত্যকার সব ধরনের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও গ্রহণ করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বোর্ডটি জানায়, ‘এক কর্তৃপক্ষ, এক আইন এবং এক অস্ত্র’-এই নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে গাজায় থাকা সব ধরনের অস্ত্র এনসিএজির অধীনে একত্রিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
হামাসের এই পদক্ষেপকে গাজার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নতুন এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং গাজার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কীভাবে এগোবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।





















