আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ শেষ হবে কবে, জানালেন ট্রাম্প

  প্রতিনিধি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১১:৫৫:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে থামবে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তেলের দামও কমার সম্ভাবনা নেই।

গতকাল বুধবার টেক্সাসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই যুদ্ধ শেষ হবে। কারণ তারা (ইরান) আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না।’

যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে যোগ দিতে টেক্সাস যাচ্ছিলেন ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেই যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চাপ বাড়ছে। একই সময়ে জনমত জরিপেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বুধবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছায়, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।

ট্রাম্প বলেন, ‘নির্বাচনের পরপরই তেলের দাম দ্রুত নিচের দিকে নামবে। আমার মনে হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এটি চলবে।’

ইরান নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তেহরান এমন একটি দুর্বল গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় আনতে চায়, যারা ইরানকে তার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি। অন্যদিকে, ইরান বারবার বলে আসছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।

টেক্সাসে আয়োজিত রিপাবলিকান সম্মেলনেও ট্রাম্প একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আমরা জয়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম পড়ে যাবে।’

ভাষণে ট্রাম্প যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেকে তাকে এসে বলছেন, ‘আমি চাই আপনি ইরানে যুদ্ধ না করতেন। এখন তো গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে।’

ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে এ মুহূর্তে এ ধরনের কোনো আলোচনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সংঘাত ইতোমধ্যে সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং নিজ দলের ভেতর থেকেও দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার দাবি উঠেছে।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে রিপাবলিকানরা। ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে আসন হারিয়ে থাকে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও।

বুধবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামও রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ফলে দেশটির বিভিন্ন পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে তারা। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও আটটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এতে জাহাজগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর একদিন আগে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালায়। এতে কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পর নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। চলমান লড়াইয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আরও বাড়ার পাশাপাশি সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content