প্রতিনিধি ১৮ মে ২০২৬ , ১১:৩৯:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। আজ সোমবার ভোরের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড জ্বালানির দাম ব্যারেল প্রতি ২ ডলার ১ সেন্ট বেড়ে ১১১ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে তা ১১২ ডলার ছুঁয়েছিল, যা গত ৫ মে-র পর সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেল প্রতি ১০৭ দশমিক ৭৫ ডলার। এটি ২ ডলার ৩৩ সেন্ট বা ২ দশমিক ২১ শতাংশ বৃদ্ধি। এক সময় দাম ১০৮ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছায়, যা কি না গত ৩০ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।
সোমবার সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
গত সপ্তাহে উভয় ধরনের তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে জাহাজে হামলা ও আটক হওয়ার ঘটনা বন্ধে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঘটনা এবং ইরান নিয়ে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের খবর বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতে শি জিনপিংয়ের মধ্যে গত সপ্তাহের বৈঠকেও সংঘাত নিরসনের বিষয়ে কোনও স্পষ্ট অগ্রগতির ইঙ্গিত মেলেনি। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক চীনের তরফেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবে ড্রোন হামলার ঘটনায় পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সে দেশের প্রশাসন। একই সঙ্গে তারা বলেছে, ‘এই ধরনের সন্ত্রাসবাদী হামলার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।’
সৌদি আরবও জানিয়েছে, ‘ইরাকের আকাশসীমা থেকে ঢুকে পড়া তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে রিয়াদ।’
বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, ‘এই ড্রোন হামলা স্পষ্ট সতর্কবার্তা। ইরানে নতুন করে মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে।’
অন্যদিকে ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।




















