আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৭০০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য কিনবে চীন

  প্রতিনিধি ১৮ মে ২০২৬ , ১:১৩:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ

আমেরিকা ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন মোড় নিতে চলেছে। বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছে, চীন প্রতি বছর অন্তত ১৭০০ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য আমেরিকা থেকে কিনবে।

রোববার প্রকাশিত এক তথ্যপত্রে জানান হয়েছে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই ক্রয়চুক্তি কার্যকর থাকবে। চলতি বছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা বছরের অবশিষ্ট সময় অনুযায়ী অনুপাতে কার্যকর করা হবে।

আজ সোমবার আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

হোয়াইট হাউস আরও জানায়, এই চুক্তি ছাড়াও চীন ইতোমধ্যে আমেরিকা থেকে অন্তত ৮ কোটি ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, চীন আবারও মার্কিন গরুর মাংসের বাজার খুলে দেবে। এজন্য ৪০০-র বেশি উৎপাদন কেন্দ্রের মেয়াদোত্তীর্ণ অনুমোদন নবায়ন করা হবে। পাশাপাশি যেসব মার্কিন অঙ্গরাজ্যকে পাখির ফ্লু-মুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে মার্কিন কৃষি দফতর, সেখান থেকে মুরগির মাংস আমদানিও পুনরায় শুরু করবে বেইজিং।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিচালনার জন্য দুটি নতুন সংস্থাও গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এগুলি হল ‘আমেরিকা-চীন বাণিজ্য বোর্ড’ এবং ‘আমেরিকা-চীন বিনিয়োগ বোর্ড’।

তবে হোয়াইট হাউসের এই ঘোষণার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি চীন। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

গত শুক্রবার ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের দুই দিনের বৈঠক শেষ হয়। জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মধ্যেও বড় কোনও চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হলেও তাইওয়ান এবং ইরান যুদ্ধের মতো স্পর্শকাতর বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়।

বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউস জানায়, দুই নেতা অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, সে বিষয়েও একমত হয়েছেন।

যদিও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি বলা হয়নি যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। পরিবর্তে চীন জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক ইস্যু এবং অন্যান্য সমস্যার এমন সমাধান হওয়া উচিত যা সব পক্ষের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেয়।

আরও খবর

Sponsered content