আন্তর্জাতিক

সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে নেদারল্যান্ডসের প্রশ্ন, কড়া জবাব ভারতের

  প্রতিনিধি ১৮ মে ২০২৬ , ১১:০৫:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব ইয়েটেনের কথিত মন্তব্যকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেদারল্যান্ডস সফরের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘ভারত একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে সকলের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।’

আজ সোমবার ভারতীয় সংবাদসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিমা দেশ বিভাগের সচিব সিবি জর্জ বলেন, ‘এই ধরনের মন্তব্য মূলত ভারতের সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাব থেকেই উঠে আসে।’

তিনি বলেন, ‘ভারত পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো সভ্যতার দেশ এবং এখানে সংস্কৃতি, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মের অসাধারণ বৈচিত্র্য রয়েছে।‘ তার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম এবং শিখধর্মের উৎপত্তি ভারতে এবং এই ধর্মগুলি এখনও সমানভাবে বিকশিত হচ্ছে।’

সিবি জর্জ আরও বলেন, ‘ইহুদি সম্প্রদায় ভারতে আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। বিশ্বের খুব কম দেশেই এমন উদাহরণ রয়েছে যেখানে ইহুদিদের কখনও নিপীড়নের মুখে পড়তে হয়নি। খ্রিস্টধর্ম যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানের পরপরই ভারতে আসে এবং এখানে বিকশিত হয়েছে। ইসলামও মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সঃ) সময়েই ভারতে পৌঁছায় এবং সমৃদ্ধ হয়েছে।’

এই মন্তব্যের সূত্রপাত হয় এক ডাচ সাংবাদিকের প্রশ্ন থেকে। সাংবাদিক জানতে চান, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির নেদারল্যান্ডস সফরে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক কেন হয়নি এবং ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কি না।’

জবাবে সিবি জর্জ সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ভারত একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের দেশ, যেখানে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে। তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি আমাদের দেশে নির্বাচন হয়েছে। সেখানে ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোটার অংশ নিয়েছেন। এটাই ভারতের সৌন্দর্য।’

সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘স্বাধীনতার সময় ভারতে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ছিল ১১ শতাংশ, যা বর্তমানে ২০ শতাংশেরও বেশি। এমন দেশ খুঁজে পাওয়া কঠিন যেখানে সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যা এভাবে বেড়েছে। ভারতে প্রতিটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিকশিত হচ্ছে।’

তিনি ডাচ সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ভারত সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করুন। তাহলে ভারতের অগ্রগতি ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাবেন।’

এ ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন নেদারল্যান্ডসের সংবাদপত্র ‘ডে ফোকস্ক্রান্ট’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রী রব ইয়েটেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে নেদারল্যান্ডস সরকারেরও উদ্বেগ রয়েছে।’

তবে পরে সামাজিক মাধ্যমে ইয়েটেন লেখেন, ‘ভারত এবং নেদারল্যান্ডস দুই দেশই গণতন্ত্র, সুশাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।’

এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা এক শিশু অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত বিরোধ নিয়েও আলোচনার ইঙ্গিত দেন তিনি।

আরও খবর

Sponsered content