আইন-আদালত

হানিফসহ ৪ আসামির মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা

  প্রতিনিধি ২৭ অক্টোবর ২০২৬ , ৩:০৫:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার আসামির রায় আগামী ২৯ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে।

আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর কার্যতালিকায় (কজলিস্ট) মামলাটি ওঠে। পরে ২৯ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

মাহবুব-উল আলম হানিফ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

চার আসামিই পলাতক। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন মামলা পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য ও অবস্থানকে সমর্থন করা, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় একটি বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া এবং আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা।

প্রসিকিউশনের দাবি, আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক নির্দেশনা ও সাংগঠনিক তৎপরতার ধারাবাহিকতায় এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। হানিফের বিরুদ্ধে টেলিফোনে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও এনেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এসব অভিযোগের সমর্থনে টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের কথা জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল রায়ে।

গত বছরের ৫ অক্টোবর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। গত ২৩ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত প্রমাণ উপস্থাপনের পর পুনরায় যুক্তিতর্ক হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় আন্দোলন চলাকালে নিহত ছয়জনের মধ্যে ছিলেন- শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুত্তাকিন ও মো. উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ।

আরও খবর

Sponsered content