প্রতিনিধি ২৫ অক্টোবর ২০২৬ , ৪:১১:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার চার্জশিট আমলে নিয়েছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এই চার্জশিট আমলে নেন।
একই সঙ্গে মামলার অপর তিন আসামি—আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। তাঁরা এ মামলায় পলাতক রয়েছেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম চার্জশিট আমলে নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, কারাগারে থাকা আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানে আনিসুল হকের স্বনাম ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর বিপরীতে পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৮ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা। পাশাপাশি আনিসুল হক ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পায় দুদক।
এ ছাড়া তদন্তে আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ পাওয়া যায়। এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হকের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।
চার্জশিটে দুদক জানায়, জেবুন্নেসা বেগম হকের নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ১৩ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ওই ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার রয়েছে।
এই মামলায় আনিসুল হক ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে দুদক। এসব হিসাবে মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।





















